ইঞ্জিনিয়ারিং ভোটের ছক! যশোরে নির্বাচন কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধেই প্রতারণার গুরুতর প্রমাণ

Date:

যশোরের বকচরে অবস্থিত ‘পুরাতন লোহা ও মোটর ব্যবসায়ী মালিক সমিতি’র ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগ এনেছেন কোষাধ্যক্ষ পদের এক প্রার্থী।

জানা গেছে, ৯ মে সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে এই অভিযোগ জানান কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী মোঃ ফরহাদ হোসেন (সদস্য নং- ৪৩)।

অভিযোগপত্রে ফরহাদ হোসেন উল্লেখ করেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ মোর্তজা হোসেন ২২৭, সেক্রেটারি প্রকাশ্য নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে তার আপন ভাই এবং একই নির্বাচনের প্রার্থী মোঃ রবিউল ইসলাম ছোটু’র পক্ষে বিভিন্ন ভোটারের নিকট মোবাইলের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন।

কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী ফরহাদ হোসেন দাবি করেন, তিনি নিজে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ওই সদস্য খোদ তার নিকটও তার ভাইয়ের জন্য ভোট চেয়েছেন, যার পর্যাপ্ত প্রমাণ ও স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফরহাদ হোসেন বলেন, যেহেতু ছোট্ট একটা মুদিখানা দোকানদার এই গাড়ি কাটা ব্যবসার সাথে সংযুক্ত নয়, তার দোকানের নাম মদিনা ভ্যারাইটিজ স্টোর। অথচ তার পরিচিতি তার ভাই মোর্তজা (২২৭, সেক্রেটারি)। সে যখন একজন দায়িত্বশীল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা হয়ে নিজের ভাইয়ের জন্য এভাবে ভোট চাবে, তখন সে তো ভোট পাবেই। শ্রমিক নেতা মোর্তজা ২২৭ এর মার্কা হল ফুটবল। এর মার্কা তার ছোট ভাইয়ের রবিউল ইসলাম ছোট্টু কে ‘ফুটবল মার্কা দিয়েছে। সে তার ভাইয়ের জন্য ফুটবল মার্কায় ভোট চাচ্ছে, কিন্তু আমাদের কোষাধ্যক্ষ পদে তো এই মার্কা নেই! কোষাধ্যক্ষ পদের মার্কাগুলো হলো তালা, টেবিল ফ্যান, আলমারি, চাবি ও টেবিল ঘড়ি। এখানে ফুটবলটা কোথা থেকে আসলো? আমরা তো কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট করছি না।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মতো একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, তবে আসন্ন নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই প্রার্থী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও কমিশনের চেয়ারম্যানের উচিত ছিল অভিযুক্ত সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচন কমিশনে যুক্ত করা। কিন্তু কমিশন তা না করে ‘ভোট পিছিয়ে যাওয়ার দোহাই’ দিয়ে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সদস্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অভিযুক্ত কমিটির সদস্য মোঃ মোর্তজা হোসেনের বিরুদ্ধে সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এই প্রার্থী। অভিযোগের সাথে প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন ভোটারদের নিকট ভোট চাওয়ার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত কী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হয়েছে সেটাই দেখার বিষয়।

Popular

More like this
Related

১২০তম জন্মবার্ষিকী: সম্পাদক আবদুল কাদির কেন প্রাসঙ্গিক?

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে আবদুল কাদির এক অনন্য...

বেসরকারি খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

সংকটে থাকা বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিতে, বিনিয়োগ বাড়াতে ও...

যে গ্রীষ্মে বিশ্ব চিনেছিল হামেস রদ্রিগেজকে

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এক স্মরণীয় টুর্নামেন্ট।...

২ দশক পর মুক্তি পেল দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডার সিক্যুয়েল

একটা সিনেমার সিক্যুয়েলের জন্য দুই দশকের অপেক্ষা। ২০০৬ সালে...