আনচেলত্তির ছাঁটাই চান রোমারিও, এন্দ্রিককে কড়া ভাষায় তুলোধোনা

Date:

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটির ফুটবল অঙ্গন। ক্ষোভে ফুঁসছেন অনেক সাবেক খেলোয়াড়, সমর্থক থেকে শুরু করে কিংবদন্তিরাও। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সরব ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী রোমারিও। নরওয়ের কাছে হারের পর জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সহজ সুযোগ নষ্ট করা তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককেও একহাত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি।

রোমারিওর মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে বয়স কোনো অজুহাত হতে পারে না। নরওয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ানো বল থেকে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক। সেই ব্যর্থতাকেই ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি।

নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠান রোমারিও টিভিতে সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘অনেকে বলছে, সে তো এখনো তরুণ। এসবের কোনো মূল্য নেই। তরুণ হোক, অভিজ্ঞ হোক, সুযোগ পেলে গোল করতেই হবে। জাতীয় দলে খেলতে নামলে দায়িত্বও নিতে হবে। এন্দ্রিকের মিস করা সুযোগটা পুরোপুরি তার নিজের ভুল। এমন মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় গোল করতে হয়। আমি তাকে পছন্দ করি, বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে সে ব্রাজিলকে অনেক আনন্দ দেবে। কিন্তু ওই ম্যাচে সে খুবই বাজে খেলেছে।’

শুধু এন্দ্রিক নন, কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতিও ছিল রোমারিওর তীব্র ক্ষোভ। ইতালিয়ান এই কোচের অধীন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি মনে করেন, আনচেলত্তির আর দায়িত্বে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

রোমারিও বলেন, ‘এই ব্যর্থতা ও লজ্জার পর আনচেলত্তির ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি হলে তার চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলতাম। এরপর চাইলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলাই করতেন।’

সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ টেনে রোমারিওর দাবি, দলের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ভিনিসিয়ুসেরই নেওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ব্রুনো নাকি পেনাল্টি ভালো নেয়, তাই কোচের নির্দেশ ছিল সে নেবে। ঠিক আছে, কিন্তু ভিনিসিয়ুস তো দলের সবচেয়ে বড় তারকা। এমন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেখাতে হয়। বলটা নিজের হাতে নিয়ে পেনাল্টি নেওয়া উচিত ছিল।’

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) ভেতরেও আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাকে রেখে দেওয়ার পক্ষে থাকলেও রোমারিওর মতো কিংবদন্তিদের প্রকাশ্য সমালোচনা ইতালিয়ান কোচের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

Popular

More like this
Related

নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ আসছে শুক্রবার

ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমা মানেই অন্য রকম কিছু। শুধু বক্স...

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি নন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি নন বলে...

জ্বালানি সংকটের জন্য দায়ী বিগত স্বৈরাচারী সরকার: তথ্যমন্ত্রী

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত স্বৈরাচার সরকার দায়ী...

‘নিয়ন্ত্রণহীন এআই’ নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে না থাকলে একশ কোটি মানুষের...