২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, অর্ধেকই স্কুলের: আঁচল ফাউন্ডেশন

Date:

দেশে গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ৩৩ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, এর মধ্যে ৪৭ শতাংশই স্কুলের শিক্ষার্থী।

বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন আজ শনিবার সকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রকাশ করে।

সমীক্ষা অনুসারে, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ জন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এর আগের বছর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঝরে গেছে ৩১০ শিক্ষার্থীর প্রাণ।

সংস্থাটি ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে এই সমীক্ষা প্রস্তুত করেছে। পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বাধিক স্কুল পর্যায়ের ১৯০ জন, যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া, কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন বা ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন বা ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৪৪ জন বা ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জনই নারী, যা শতকরা হিসাবে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। পুরুষ ১৫৪ জন, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।

স্কুল পর্যায়ে গত বছর ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি—৪১ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।

মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে এই সময়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক ও ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মেডিকেল কলেজের ৬ জন এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর চেয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি, যা মোট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

আঁচল ফাউন্ডেশন মনে করে, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, পারিবারিক টানাপড়েন, হতাশা ও যৌন নির্যাতন ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কুলশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাডেমিক চাপ প্রধান কারণ।

সমীক্ষায় আরও জানানো হয়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র প্রতিবেদন নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে; ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন, অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ও রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরেছে, দেখা গেছে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের কনসালট্যান্ট ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. আনিস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও কিশোর মনোরোগ হাসপাতাল অ্যাপল উড সেন্টারসের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. মারুফ আহমেদ খান, আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

Popular

More like this
Related

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার নিহত: রয়টার্স

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ...

রুশ নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ

ইরানে অবস্থানরত রুশ নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়া।আল...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা: জেদ্দায় আটকা পড়েছেন মুশফিক

ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ফলে...