গত মাসের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমন্বিত হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য যেসব দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান।
এই সংঘাত দশ দিন পার হয়ে একাদশ দিনে পা দিয়েছে। কিন্তু এখনো এটা থামার কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এই দেড় সপ্তাহে সংঘাত শুধু ইরানে সীমাবদ্ধ থাকেনি—এটি ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে। এই যুদ্ধের প্রভাবে গোটা বিশ্বে তেলের দাম বেড়েছে।
হামলার প্রথম ধাপেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। গতকাল সোমবার আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে তেহরান।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি খামেনির সন্তানকে সমর্থন জানাবেন না। ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছিলেন এই বিশ্ব নেতা। কিন্তু তেহরানবাসী তার সেই ‘খায়েশ’ পূরণে একেবারেই আগ্রহী ছিল না।
যুদ্ধের হালনাগাদ পরিস্থিতির একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
ফ্লোরিডায় দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে ইরানে বেশ কয়েকটি সামরিক বিজয় অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং খুব শিগগির যুদ্ধ শেষ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘আরও দূর আগাবে’।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অনেক দিক দিয়েই বিজয়ী হয়েছি, কিন্তু এখনো তা যথেষ্ঠ নয়।’
ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলাকে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ। তিনি একে ‘সামরিক অভিযান’ আখ্যা দেন এবং যুক্তি দেন, নীতিমালাগত দিক দিয়ে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরান। সেটা ঠেকাতেই এই ‘অভিযান’।
বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেনে নেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়েছে।
তবে তিনি যুক্তি দেন, পুঁজিবাজারের টালমাটাল অবস্থার দ্রুত অবসান হবে।
‘যুদ্ধে কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হবেই—এটা এড়ানোর উপায় নেই’, যোগ করেন ট্রাম্প।
একই দিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প।
এরপর তিনি জানান, আরও কে মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট আটজন মার্কিন নাগরিক এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননে নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরানের অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনা।
যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস মত দেন, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। তেলের ক্রমবর্ধমান দামে রাশ টেনে ধরতে জি-৭ জোটের দেশগুলোর তেলের রিজার্ভ অবমুক্ত করার উদ্যোগে লন্ডন সমর্থন জানাবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সাইপ্রাস সফর করছেন। সাইপ্রাসেও বিচ্ছিন্নভাবে হামলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইউরোপের দক্ষিণ ফ্রন্টে আরও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানের নারী ফুটবল দলকে দেশটি মানবিক কারণে ভিসা দিয়েছে।