হংকংয়ে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে শোকাহতদের ভিড়, বিক্ষোভ নিয়ে সতর্ক চীন

Date:

গত ৭৫ বছরের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হন। এমন সময়ে ‘চীন-বিরোধী’ বিক্ষোভ হলে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের সতর্কবার্তা জানিয়েছে বেইজিং।

আজ রোববার সন্ধ্যায় তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে হংকংয়ের পুলিশ।

এখনও ৪০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

৩২ তলা সাতটি ভবনে লাগা আগুনের কারণ জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অগ্নি-ঝুঁকি সতর্কতা উপেক্ষা করা ও অনিরাপদ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়াকে কেন্দ্র করে জনরোষ বাড়ছে।

শোকসন্তপ্তরা ওয়াং ফুক কোর্ট হাউজিং কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী খালের তীরে এক কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে সাদা ফুল অর্পণ করেন। কেউ কেউ নিহতদের উদ্দেশে লেখা নোটও সংযুক্ত করেন।

আগুন লাগার চার দিন আবাসিক এলাকাটির বাইরের অংশে ধোঁয়ার গন্ধ ভাসছিল। এলাকাটিতে প্রায় ২ হাজার অ্যাপার্টমেন্টে বাস করতেন প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি বাসিন্দা।

পুড়ে যাওয়া একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল ২৮ বছর বয়সী জোয়ে ইয়াং-এর দাদীর। শোক ও দায়ীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের জন্য তিনি পরিবারসহ এসেছেন ওয়াং ফুক কোর্টের বাইরে।

রয়টার্সকে জোয়ে বলেন, ‘আমি এটি মেনে নিতে পারছি না। তাই আজ বাবা ও পরিবার নিয়ে ফুল দিতে এসেছি। আমি কিছু ফিরে পাওয়ার আশা করছি না, কিন্তু কমপক্ষে মৃতদের পরিবার ও যারা এখনও বেঁচে আছেন তাদের জন্য ন্যায়বিচার চাই।’

নিহতদের মধ্যে আছেন সাতজন ইন্দোনেশীয় নারী গৃহকর্মী ও একজন ফিলিপিনো সহকারী। নিখোঁজ আরও বহু অভিবাসী শ্রমিক। রোববার সকালে শহরের ফিলিপিনো সম্প্রদায়ের জন্য সেন্ট্রাল হংকংয়ে আয়োজিত এক উন্মুক্ত প্রার্থনাসভায় শত শত মানুষ অংশ নেন।

এর মাঝেই গতকাল শনিবার ২৪ বছর বয়সী মাইলস কোয়ানকে আটক করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্নীতি ও নির্মাণ তদারকির পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্বাধীন তদন্ত চেয়ে একটি পিটিশন শুরু করেছিলেন মাইক। অনলাইন পিটিশনে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে। এরপর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে পুলিশ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর মধ্যে গতকাল শনিবার চীনের জাতীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানায়, কেউ যদি এই দুর্ঘটনাকে ব্যবহার করে ২০১৯ সালের প্রো-ডেমোক্রেসি আন্দোলনের মতো ‘চীন-বিরোধী’ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আমরা ‘দুর্যোগকে অজুহাত করে হংকং অস্থিতিশীল’ করার চেষ্টাকারী চীন-বিরোধী উপদ্রবকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করছি। আপনি যাই করুন না কেন, আপনাকে অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে এবং কঠোর শাস্তি পেতে হবে।’

গত বুধবার দুপুরে বুধবার দুপুরে আবাসিক এলাকাটিতে অগ্নিকাণ্ডের শুরু হয়। সংস্কারের জন্য বাঁশের মাচা ও সবুজ জাল দিয়ে মোড়ানো ৩২ তলা বিশিষ্ট আটটির মধ্যে সাতটি ভবনে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের দেয়ালে ফোম ইনসুলেশনও ব্যবহৃত হয়েছিল।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সংস্কারের কাজে নিযুক্ত ঠিকাদার ও নির্মাণ সংস্থার ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

১৯৪৮ সালের পর এটিই হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় একটি গুদামে লাগা আগুনে প্রাণ হারান ১৭৬ জন।

Popular

More like this
Related

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ বৈধ: আপিল বিভাগ

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন...

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে ‘বিশ্বকাপের প্রস্তুতি’ শুরু পাকিস্তানের

ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সাহেবজাদা ফারহান, আর বল হাতে...

সম্পাদক পরিষদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা

সম্পাদক পরিষদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল...

আতলেতিককে উড়িয়ে দিয়ে স্প্যানিশ কাপের ফাইনালে বার্সেলোনা

আতলেতিক ক্লাবের বিপক্ষে একপেশে আধিপত্য দেখিয়ে স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনালে...