ইউরোপিয়ান ফুটবলের ব্যস্ত সূচির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একদিকে যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বার্সেলোনা, ঠিক তেমনই উদ্বেগে ডুবে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ শিবির। একই সময়ে দুই দলের গোলরক্ষকদের ঘিরে আসা বিপরীতধর্মী খবর যেন দুই জায়ান্টের মানসিক অবস্থাকেও দুই মেরুতে ঠেলে দিয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের জন্য দুঃসংবাদই বয়ে এনেছে থিবো কুর্তোয়ার চোট। প্রাথমিক শঙ্কাই সত্যি হয়েছে, ডান পায়ের কোয়াড্রিসেপসের রেক্টাস ফেমোরিসে গুরুতর পেশির চোটে পড়েছেন বেলজিয়ান এই তারকা গোলরক্ষক। ক্লাবের মেডিক্যাল রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। ফলে আসন্ন মাদ্রিদ ডার্বি তো বটেই, বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালেও পাওয়া যাবে না দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এই শেষ প্রহরীকে।
ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ইনজুরি সমস্যার কালো ছায়া কাটিয়ে উঠছে রিয়াল, তখনই কুর্তোয়ার ছিটকে পড়া নতুন করে ধাক্কা দিল দলকে। এখন গোলবারের দায়িত্ব পড়বে আন্দ্রি লুনিনের কাঁধে। যদিও ইউক্রেনীয় এই গোলরক্ষক নির্ভরযোগ্য, তবে কুর্তোয়ার মতো ‘ম্যাচ-উইনার’ উপস্থিতির অভাব যে বড় করে অনুভূত হবে, তা বলাই বাহুল্য। আন্তর্জাতিক বিরতির কারণে কিছুটা সময় পেলেও, একাধিক খেলোয়াড় জাতীয় দলে যোগ দেওয়ায় সেটিও পুরোপুরি স্বস্তির নয় কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য।
অন্যদিকে, বার্সেলোনা শিবিরে বইছে স্বস্তির হাওয়া। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচে চোটের শঙ্কা তৈরি করা হুয়ান গার্সিয়াকে নিয়ে সব দুশ্চিন্তা কেটে গেছে। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে বাঁ পায়ের পেশিতে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়েন ২৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। তখন তার অভিব্যক্তি দেখে বড় ধরনের ইনজুরির আশঙ্কাই করেছিল সমর্থকরা।
তবে পরদিন সকালে করা মেডিক্যাল পরীক্ষায় স্বস্তির খবরই মিলেছে, কোনো চোট পাননি গার্সিয়া। ফলে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচেই তাকে পাওয়া যাবে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং তার জায়গায় নামেন বয়েচেখ শেজনি।
একই ম্যাচে বদলি হওয়া এরিক গার্সিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুতর কিছু নয় বলেই জানা গেছে। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর উচ্চগতির ম্যাচে ঝুঁকি না নিয়ে নিজেই পরিবর্তন চান এই ডিফেন্ডার।