স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ১৭ বছরের গেরো খুলল ইংল্যান্ড

Date:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একই মহাদেশের (ইউরোপ) কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ ছিল না ইংল্যান্ডের। ২০০৯ সালের আসরে লর্ডসে নেদারল্যান্ডসের কাছে হার দিয়ে শুরু হওয়া সেই ব্যর্থতার যাত্রার অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৭ বছর পর। স্কটল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে অবশেষে সেই গেরো খুলল ইংলিশরা। বল হাতে আদিল রশিদ আর ব্যাট হাতে টম ব্যান্টনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় তুলে নিল তারা।

শনিবার ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ৫ উইকেটে জিতেছে হ্যারি ব্রুকের দল। টস হেরে আগে ব্যাট করে ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয় স্কটিশরা। এরপর ১০ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছায় ইংল্যান্ড।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে ষষ্ঠ দেখায় এটি ইংলিশদের প্রথম জয়। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের কাছে, ২০২২ সালে আয়ারল্যান্ডের কাছে ও সবশেষ ২০২৪ সালের আসরে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তারা। আর আইরিশদের বিপক্ষে তাদের ২০১০ সালের ম্যাচটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে।

এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে হারতে হারতে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। তবে পরের ম্যাচে আর পারেনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেই বসে তারা। তাই স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জয়ের সুবাদে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল দলটি। তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে এই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে। সুপার এইট নিশ্চিত করতে আগামী সোমবার একই ভেন্যুতে ইতালির মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।

জফ্রা আর্চারের তোপে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট খুইয়ে ফেলা স্কটল্যান্ড ঘুরে দাঁড়ায় চতুর্থ উইকেট জুটিতে। অধিনায়ক রিচি বেরিংটন ও টম ব্রুস দম দেন রানের চাকায়। এতে দ্বাদশ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠে যায় শতরান। কিন্তু দলটির বড় পুঁজির আশা ভেস্তে যায় পরের ব্যাটাররা হতাশ করায়। দুই স্পিনার রশিদ ও লিয়াম ডসনকে কোনো জবাব দিতে পারেননি তারা।

৪১ বলে ৭১ রানের জুটি ভেঙে ইংলিশদের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু দেন রশিদ। সুইপের চেষ্টায় এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন বেরিংটন। তিনি ৩২ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায়। ১৮ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ২৪ রান করা ব্রুসকে থামান ডসন। এছাড়া, ওপেনার মাইকেল জোনস পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩৩ রান।

লেগ স্পিনার রশিদ ৩ উইকেট শিকার করেন ৩৪ রান খরচায়। দুটি করে উইকেট নেন পেসার আর্চার ও বাঁহাতি স্পিনার ডসন। মাত্র ৪২ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় স্কটিশরা।

রান তাড়ায় প্রথম ওভারে ফিল সল্ট বিদায় নেন। দ্বিতীয় ওভারে তার মতো সাজঘরের পথ ধরেন জস বাটলার। ওপেনারদের হারিয়ে বিপাকে পড়া ইংল্যান্ডে সংগ্রহ তখন মাত্র ১৩ রান।

আগের দুটি ম্যাচ ব্যর্থ হলেও চারে নামা ব্যান্টন এরপর হাল ধরেন শক্তভাবে। জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে ৪৫ বলে ৬৬ রানে জুটিতে দলকে জয়ের কক্ষপথে ফেরান তিনি। দুটি চার ও একটি ছক্কায় বেথেল ২৮ বলে ৩২ রানে আউট হওয়ার পর অধিনায়ক ব্রুকও টেকেননি। ফলে আবার চাপ তৈরি হলেও তা জেঁকে বসতে দেননি ব্যান্টন। স্যাম কারানের সঙ্গে যোগ করেন ৩৩ বলে ৪৬ রান।

একটি চার ও দুটি ছক্কায় ২০ বলে ২৮ রানে কারান ফেরার পর উইল জ্যাকসকে নিয়ে বাকিটা সারেন ব্যান্টন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ফিফটি হাঁকিয়ে জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। শুরুতে খোলসবন্দি থাকলেও শেষমেশ তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৪১ বলে তিনি খেলেন অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস। জ্যাকসের ব্যাট থেকে একটি করে চার ও ছক্কায় আসে ১০ বলে অপরাজিত ১৬ রান।

Popular

More like this
Related

খালেদা জিয়া সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন: ডা. জাহিদ

চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তিনি...

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে গতি ফিরেছে দলে, উজ্জীবিত বিএনপির নেতাকর্মীরা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় দলটির রাজনৈতিক...

প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের...

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা, এনসিপিতে ভাঙনের সুর

জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের ঠিক আগে...