নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যেভাবে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, একই নিয়ম মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও প্রথম অধিবেশন ডাকার বিধান রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আজ সেই নির্ধারিত সময়ের ৩০তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে, অথচ এখন পর্যন্ত এই পরিষদের কোনো অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি। এটাই আমার কনসার্নের (উদ্বেগ) বিষয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের একইসঙ্গে আইনপ্রণেতা ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালনের কথা।
পরিষদের মূল দায়িত্ব হলো—১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংবিধানের ৪৮টি বিধান পর্যালোচনা ও সংস্কার করা। এই লক্ষ্যে সংসদ সদস্যদের দুটি পৃথক শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি পরিষদের সদস্য হিসেবে।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর অধীনে এই পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বর্তমানে তা নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সদস্যরা এখনো পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথই গ্রহণ করেছেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করলেও সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না।
জামায়াত আমির বলেন, যেহেতু তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই তারা অর্পিত এই দ্বৈত দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করতে চান।