শ্রীলঙ্কার উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজ-ডুবির যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৫০ জন নিখোঁজ আছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আজ বুধবার এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্রু সদস্যদের বরাতে বলা হয়, ডোবার আগে জাহাজে একটি বিস্ফোরণ হয়েছিল।
এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। তবে নিখোঁজ আরও ১৪৮ নাবিককে উদ্ধারের আশা কমে আসছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।
এএফপি জানায়, জাহাজটি ভারতের পূর্ব উপকূলের বিশাখাপত্তমে অনুষ্ঠিত সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার পর ফিরছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ পার্লামেন্টে জানান, উদ্ধার ৩২ ইরানিকে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজদের অনুসন্ধানে দুটি নৌযান এবং একটি বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি বুধবার ভোরে বিপদ সংকেত পাঠায়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে একটি উদ্ধার জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী বলছে, উদ্ধার কাজের সময় জাহাজটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়।
একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি, তবে বাকি ক্রুদের কী হয়েছে তা এখনো জানি না।
এসময় পার্লামেন্টে একজন বিরোধী দলীয় সদস্য জানতে চান, জাহাজটি মার্কিন ও ইসরায়েলের চলমান হামলার অংশ হিসেবে হামলার শিকার হয়েছে কিনা। এই প্রশ্নের জবাবে সরকার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলিরেজা দেলখোশের কোনো মন্তব্য জানতে পারেনি এএফপি।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী মুখপাত্র বুদ্ধিখা সম্পদ বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে বিপদ সংকেতে সাড়া দিয়েছি।
এদিকে এ যুদ্ধের ঘটনায় শ্রীলঙ্কা এখনো নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ সমাধানের জন্য সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
দেশটির প্রায় এক মিলিয়ন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত এবং তারা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
এএফপি বলছে, উদ্ধারকালে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ভিডিও প্রকাশ করেনি, কারণ এতে অন্য দেশের সামরিক বাহিনী জড়িত ছিল।