কেবল স্রেফ একটা ট্রফি জয় নয়, এ যেন জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট ইতিহাসের গতিপথ বদলের ক্ষণ। কয়েক দশক ধরে নানা চড়াই-উতরাই পার করা জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটে আজ এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্ণাটককে হারিয়ে প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলল তারা। রঞ্জীর ৯১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার পিছিয়ে পড়া অঞ্চল কাশ্মীর ফাইনালে উঠেই করল বাজিমাত।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হুবলিতে ম্যাচের শেষ দিনে দুপুর ২টা ১১ মিনিটে যখন দুই অধিনায়ক হাত মেলালেন, তখন সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিডের ওপর ভর করে ৯১তম রঞ্জি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হলো জম্মু ও কাশ্মীর।
অথচ ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষেও লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন কর্ণাটকের ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল। কিন্তু পঞ্চম দিনের মন্থর উইকেটে বোলারদের জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা ছিল না। পেসারদের জন্য ছিল না গতি কিংবা বাউন্স, স্পিনারদের জন্যও পিচ ছিল নিরুত্তাপ। ফলে অনেকটা আগেভাগেই হাল ছেড়ে দেয় কর্ণাটক। এমনকি মূল বোলারদের বিশ্রাম দিতে এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বল হাতে তুলে নেন ব্যাটার কেএল রাহুল।
বাকি সময়টা ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাটারদের উৎসবে মাতার পালা। আগের রাতের দুই অপরাজিত ব্যাটার কামরান ইকবাল ও সাহিল লোত্রা দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন। কামরান ১৬০ এবং সাহিল ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন। সাহিল অবশ্য ৬২ রানে থাকাকালীন স্লিপে মায়াঙ্ক আগরওয়ালের হাতে জীবন পেয়েছিলেন, তবে সেই ক্যাচ ধরলেও ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল না।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দাপট দেখিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। শ্রীনগরে মুম্বাইকে হারানো থেকে শুরু করে দিল্লিতে স্বাগতিকদের নাস্তানাবুদ করা—সবখানেই ছিল তাদের দাপুটে পদচারণা। নকআউট পর্বে ইন্দোরে মধ্যপ্রদেশ এবং কলকাতায় বাংলাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। আর ফাইনালে এসে হুবলিতে কর্ণাটককে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই টেক্কা দিল তারা।
ব্যক্তিগত অর্জনেও উজ্জ্বল ছিল কাশ্মীরের ক্রিকেটাররা। আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে মৌসুম শেষ করেছেন আকিব নবী। অন্যদিকে অধিনায়ক পরশ ডোগরার জন্য এই জয় ছিল আবেগের। দীর্ঘ ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে ১০ হাজারেরও বেশি রান করার পর অবশেষে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জম্মু ও কাশ্মীর: ৫৮৪ ও ৩৪২/৪ (কামরান ১৬০*, সাহিল ১০১*)
কর্ণাটক: ২৯৩ (মায়াঙ্ক ১৬০; আকিব ৫/৫৪)
ফল: প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর চ্যাম্পিয়ন।