মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ১৮৩ দিন পর বাড়ি ফিরল আবিদ

Date:

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৮৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল সর্বশেষ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সে। 

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। 

ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সেদিনই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। জীবন-মরণের সমস্যা ছিল আবিদের। তবে চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। হাল ছাড়েনি আবিদ ও তার পরিবার। সর্বমোট ৫ দিন আইসিইউতে ভর্তি ছিল সে। এরপর ৬ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। এরপর বাকি দিনগুলো কেবিনে থাকার পর আজ সুস্থ হয়েছে। আজ সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আবিদের মোট ৩৫ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে ১০ বার এবং তার দুই হাতের অকার্যকর টিস্যু ২৩ বার অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল সে। সেজন্য ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। আবিদের মুখমণ্ডল দগ্ধ হয় বেশী। ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ২৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।’

ডা. মারুফুল আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে সে বাসায় যাওয়ার উপযোগী হয়েছে। আবিদের বাবা-মা যথেষ্ট ধৈর্যধারণ করেছেন। তার ফিজিওথেরাপি দরকার। যেটা সে হাসপাতালে এসে দিতে পারবে অথবা বাসায় গিয়েও দেওয়া যেতে পারে।’

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আবিদুর রহিমের শরীরের কম অংশ দগ্ধ হলেও আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার সেফটিসেমিয়া হয়েছিল। যে কারণে ৬ মাস লেগেছে। আমরা যে ৩৬ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, তার মধ্যে সর্বশেষ রোগী হিসেবে আবিদুর রহিম সুস্থ হয়ে বাসায় যাচ্ছে। এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের ডাকে সারা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসকরা এসেছিলেন। তারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে একসঙ্গে বসে এমন কিছু ওষুধ ও ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ব্যবহার করতে পেরেছি, যা এর আগে বার্ন ইনস্টিটিউটে ব্যবহার হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে সব রোগীকে উন্নতমানের চিকিৎসা ও মেটেরিয়ালস দিতে পারি, সেজন্য সবাই বসে সরকারের কাছে আবেদনও করেছি। যেন মাইলস্টোনের রোগীদের মত সাধারণ রোগীদেরও এমন চিকিৎসা দিতে পারি।’ 

এসময় আবিদুর রহিমের কাছে তার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সে শুধু বলে, ‘আমি যখন হাসপাতালে এসেছি কোনো ভয় পাইনি।’ এরপর কান্না শুরু করে দেয়। আর কথা বলতে পারেনি। তবে ধরা কণ্ঠে বলে, ‘যুদ্ধ জয় করেছি’। 

আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ছেলে ও এই ঘটনায় হতাহতদের জন্য দোয়া চান। 

বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই পরিমাণটা কম হয়েছে।’ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। মুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় আগুনে পুড়ে ও চাপা পড়ে প্রাণ হারান স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।

Popular

More like this
Related

ফেব্রুয়ারির আগেই হাসিনার দেশে ফেরার দাবিটি সঠিক নয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারির...

জিরোনার কাছে হেরে শীর্ষস্থান খোয়াল বার্সেলোনা

মন্টিলিভি স্টেডিয়ামে বড় ধাক্কা খেল বার্সেলোনা। স্বাগতিক জিরোনার কাছে...

ঢাকা-৪: প্রার্থীই যখন ভুক্তভোগী

ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ১টা। ঢাকা-৪ আসনের আওতাধীন মুরাদপুরের...

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর করবে বাংলাদেশ

সেনাবাহিনী পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত...