ভোলার বিসিক শিল্পনগরীর দুটি কারখানা থেকে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ছয় হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ঘটনায় কারখানার মালিকদের মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ আহমেদ বুলবুলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে ‘খান ফ্লাওয়ার মিল’ থেকে তিন হাজার ৯৭৪ লিটার এবং ‘তৃষ্ণা বেকারি’ থেকে দুই হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক জামাল খান কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দুটি পানির ট্যাঙ্ক ও আটটি ড্রামে এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রেখেছিলেন।
আদালত খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক জামাল খানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন, যা অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া তৃষ্ণা বেকারির মালিক মো. জুয়েলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত ডিজেল বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযান চলাকালে খান ফ্লাওয়ার মিলের শ্রমিকরা ইট ও বালুর বস্তা দিয়ে শিল্পনগরীর ভেতরে ব্যারিকেড তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সময় মিল মালিক জামাল খান উপস্থিত সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি ও হামলার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
জামাল খান দাবি করেন, তিনি ইলিশা অ্যাগ্রোর নামে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি নিয়ে এই ডিজেল এনেছিলেন এবং বিতরণের হিসাবও দিয়েছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের ব্যবসা বা মজুত করার কোনো লাইসেন্স তার নেই।
ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুত করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানেরই বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।