সরকার গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করলে সেটি হবে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার সকালে ঈদ জামাত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, জনগণের কাছে আমরা যখন গেছি, দুইটা ভোট চেয়েছি—একটা গণভোট, আরেকটা আমরা চেয়েছি সংসদ নির্বাচনের ভোট। জনগণ তো দুটি ভোটই দিয়েছে। একটা হালাল হলে আরেকটা হারাম হবে কেন? আর একটা যদি হারাম হয়, তাহলে আরেকটা হালাল হয় কীভাবে? এটা যারা এখনো বোঝেন নাই, অর্থাৎ সরকারি দল, তারা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, সংকট তত তাড়াতাড়ি কাটবে।’
‘তারাও জাতির সামনে কথা দিয়েছেন, তারাও গণভোটের কথা বলেছেন, তারাও গণভোটকে সমর্থন করেছেন। এখন যদি এটার বিরোধিতা করেন, এটা হবে খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই জনতার সর্বোচ্চ রায়কে সবাই যেন সম্মান করে। যদি এটা হয়, আলহামদুলিল্লাহ ভালো। যদি না হয়, তাহলে এ আকাঙ্ক্ষা যে বিশাল জনগোষ্ঠী পোষণ করে—৭০ ভাগ মানুষ, আমরা তাদেরকে সাথে নিয়ে এই দাবি আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ,’ যোগ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের কাছে আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে; শহীদদের কাছে, আহতদের কাছে, পঙ্গুদের কাছে, জুলাই যোদ্ধাদের কাছে, নির্বিশেষে বাংলাদেশের মুক্তিকামী সমস্ত মানুষের কাছে।’
এ সময় ঈদযাত্রায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘ঈদ আসে খুশির বার্তা নিয়ে এবং ঈদ আসলে বিশেষ করে শহরে-নগরে অবস্থানরত জনগণ নাড়ির টানে বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে। সেই সময়টা অতীতেও বিভিন্ন সময় অনেক গ্যাঞ্জাম ছিল, সমস্যা ছিল। এবার সমস্যাটা হয়েছে আরও বেশি মাত্রায়। আমরা খুবই ব্যথিত, আমরা লজ্জিত। পরিবর্তিত বাংলাদেশে এটা হওয়া উচিত ছিল না। ভাড়া নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে, আর সরকারের এই বিভাগের মন্ত্রী যে সমস্ত কথা একেক সময় একেকটা বলেছেন, আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত। আমরা জানি না উনারা লজ্জিত-অনুতপ্ত কি না!’
তিনি বলেন, ‘স্বল্প আয়ের মানুষরাই বেশিরভাগ যায় গ্রামের দিকে। সারা বছর একটু একটু করে সামান্য টাকা জমায়, কিন্তু সেই টাকাটা যদি ভাড়ায় সব শেষ হয়ে যায়, তাহলে ঈদের আনন্দই তো ম্লান হয়ে যায়! তারা কষ্টের মধ্যে পড়ে যায়। এটা অমানবিক। এটা আসলে একটা মানবতাবিরোধী অপরাধ, যেটা গোটা জাতির সাথে করা হয়েছে। যারা করেছে তারা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ করেনি। আমরা এটার নিন্দা জানাই। তাদের উচিত ছিল এই ঈদের যাত্রাটাকে আরামদায়ক করা, স্বস্তিদায়ক করা। এটা তারা করতে পারেন নাই, ব্যর্থ হয়েছেন।’
বৈশ্বিক শান্তি কামনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যে সময় শান্তিতে এখানে ঈদের নামাজটা আদায় করলাম, আজকে গাজা, ফিলিস্তিন, ইরাক, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, আমাদের পার্শ্ববর্তী কাশ্মীর, মিন্দানাও, জুলু ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া এগুলার দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখবেন যে আসলে তাদের সেই ঈদের আনন্দ নেই। যুদ্ধের দাবানল চতুর্দিকে জ্বলছে। জ্বলে পুড়ে সভ্যতা-মানবতা ছাই হচ্ছে। আমরা চাই, এই যুদ্ধ যারা উসকে দিয়েছেন, আল্লাহ তাদেরকে যেন মানবতা বোধ দান করে, তারা যেন মানুষকে সম্মান করতে শেখে এবং এই যুদ্ধ থেকে তারা যেন বিরত থাকে, মানুষ যেন শান্তি পায়।’
‘দোয়া করি, আল্লাহ যেন মজলুমের সহায় হন। জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহ যেন মজলুমকে সাহায্য করেন এবং শেষ পর্যন্ত মজলুমের বিজয়ই যেন আল্লাহ নিশ্চিত করে দেন, আমরা আশাবাদী।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ যুগে যুগে কত ছোট ছোট দলকে বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, যারা সত্যের পক্ষে, মানবতার পক্ষে আছে, আল্লাহ যেন তাদেরকে বিজয় দান করেন।’
এ সময় জামায়াত আমির দেশবাসী এবং প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ মুসলিম বিশ্বের সবাইকে মোবারকবাদ জানান।