বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভুল বোঝাচ্ছে একটি দল: তারেক রহমান

Date:

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে একটি দল। তারা মানুষকে ভুল বুঝিয়ে গুনাহের কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বেহেশত ও দোজখ দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এ ধরনের কথা বলে তারা শিরক করছে। ওই দলটি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বর্জন করতে হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে আইনপুর খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। 

তারেক রহমান বলেন, যারা এই দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তারা ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম-খুনসহ মামলা করতো। 

তিনি বলেন, এই জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন অতীতে বিএনপিই করেছে। পলাতক সরকার ১৬ বছরে কিছুই করেনি। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই জেলার চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করব, ফ্যামিলি কার্ড করে দেবো৷  

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি টানা ১৭ বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে একটা কথা বলেছিলাম—’আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। সেই প্ল্যানের একটি অংশ হচ্ছে—এ দেশের বেকার যুবক। শিক্ষিত হোক, অল্প শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত—সব মানুষের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যেন এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যুব সমাজের যারা সদস্য, তরুণ সমাজের যারা সদস্য—আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম গড়ে তুলতে চাই। আপনারা লন্ডনে যান, অথবা এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যান, আমরা আপনাদের ট্রেনিং দিয়ে পাঠাব, আপনাদের সেই দেশের ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাব, যেন ওই দেশে গিয়ে আপনারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দ্রুত করতে পারেন।

‘আপনারা যদি কোনো রকম দক্ষ না হয়ে সে দেশে যান, আয়-রোজগার কম হবে। কিন্তু যদি কোনো ট্রেনিং নিয়ে যান, তাহলে কী হবে? রোজগার বেশি হবে না? আমরা সেই ব্যবস্থা এ দেশের মানুষের জন্য করতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, যেসব পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই, এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা হয় খাদ্য সহায়তা বা নগদ সহায়তা দেবো। যেন তারা সংসার সুন্দরভাবে চালিয়া নিতে পারেন। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মা-বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাই। 

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, একইভাবে আরেক শ্রেণির মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাচ্ছি, তারা কারা? তারা আমাদের আপনজন। এই মানুষগুলো আমাদের সুখ-দুঃখে সঙ্গে থাকেন। জীবনেও আমাদের সঙ্গে থাকেন, মৃত্যুর সময়ও আমাদের সঙ্গে থাকেন। অর্থাৎ আমাদের বিভিন্ন সারা দেশে যে মসজিদ-মাদ্রাসা আছে, সেখানকার খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাহেবরা।

‘আমরা এই মানুষগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। যেন মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন সাহেবরা আত্মসম্মান নিয়ে সম্মানের সঙ্গে এই সমাজে বসবাস করতে পারেন’, যোগ করেন তিনি।

Popular

More like this
Related

কেমিক্যাল ড্রাম কাটার সময় বিস্ফোরণে পথচারী নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় একটি ওয়ার্কশপে কেমিক্যালের ড্রাম কাটার সময়...

বনানীতে ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন...

চা-রাবার চাষের জন্য খোঁড়া হচ্ছিল গলফ মাঠ, স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শমশেরনগর গলফ...

ভারত-পাকিস্তান: এক দ্বৈরথের মরীচিকা

শেষ কবে আপনাকে ঠকানো হয়েছিল?ঠকানো, প্রতারণার শিকার হওয়া প্রায়...