পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে অনেক আলোচনাই বিশ্বকাপকেন্দ্রিক। প্রথমত বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করার ব্যাপার, দ্বিতীয়ত বিশ্বকাপ ঘিরে দল তৈরি করার তাগিদ। তবে অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ এই আলোচনায় কতটা শক্ত অবস্থানে আছেন, তা নিয়ে আছে সংশয়। কারণ, বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি অধিনায়ক থাকবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা নেই তার নিজের কাছেও।
গত বছর নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে হুট করেই ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয় মিরাজকে। তখন তার মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয় এক বছর। পাকিস্তান সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত তার মেয়াদ। এরপর মিরাজ অধিনায়ক থাকবেন কি না, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।
মিরাজ নেতৃত্ব নেওয়ার আগে থেকেই বাংলাদেশ দল হারের বৃত্তে ছিল। তিনি এসেও পরিস্থিতির খুব একটা বদল করতে পারেননি। ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজ জিতলেও তার আগে ছিল টানা হারের ধাক্কা। মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও এখন তলানিতে।
ছোট মেয়াদী পরিকল্পনায় মিরাজ যতটা শামিল হচ্ছেন, দীর্ঘ মেয়াদে তিনি ততটা আছেন কি না—এই আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ জানান, নেতৃত্ব নিয়ে বিসিবির নীতিনির্ধারকরা তার সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত বোর্ড আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। এই সিরিজটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সিরিজের পর হয়তো এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।’
মাঠে মিরাজের দল পরিচালনা এবং মাঠের বাইরে খেলোয়াড় ম্যানেজমেন্টের কিছু ঘাটতি নিয়ে ভেতরে প্রশ্ন আছে। এসবের মাঝে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়েও এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারের অবস্থা নড়বড়ে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ তাই একদিক থেকে মিরাজের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। ফল খারাপ হলে বিসিবিকে হয়তো বিকল্প পরিকল্পনায় হাঁটতে হবে। মিরাজ যদিও এই সিরিজে তার নেতৃত্বের কোনো পরীক্ষা দেখছেন না। তার ভাষ্য, ‘ক্যাপ্টেন কে থাকবে তা বোর্ড ঠিক করবে। তবে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, তাকে সময় দেওয়া হলে সুন্দরভাবে দল গঠন করা সম্ভব। আমি মনে করি এটি পরীক্ষা নয়, বরং দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন করা। বিগত সিরিজে আমরা ম্যাচ জিতেছি। এখন এই সিরিজটি দলের জন্য এবং বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’