বার্সেলোনা থেকে ম্যানচেস্টার: গার্দিওলার যাদু এখনো অমলিন

Date:

বৃষ্টি ভেজা ম্যানচেস্টারের আকাশের নিচে রোববার সন্ধ্যায় পেপ গার্দিওলা দাঁড়িয়ে ছিলেন ডাগআউটে। নিজ ভূমি বার্সেলোনা থেকে হাজার মাইল দূরে, কিন্তু এই মুহূর্তে এর চেয়ে প্রিয় স্থান আর কোথাও ছিল না তার। কারণ এটি ছিল তার ম্যানেজারিয়াল ক্যারিয়ারের ১০০০তম ম্যাচ। একটি প্রতীকী দিনে প্রমাণ মিলল, গার্দিওলার যাদু এখনো অক্ষয়।

গত মৌসুমে অনেকে বলেছিলেন, ভূমধ্যসাগরের তীরঘেঁষা শহর থেকে উঠে আসা এই কাতালান কোচের ঝলক নাকি ফিকে হয়ে এসেছে। ম্যানচেস্টার সিটি হারিয়েছে তাদের আধিপত্য, হারিয়েছে ছন্দ। কিন্তু রবিবারের ৩-০ গোলে লিভারপুলের বিপক্ষে দাপুটে জয় প্রমাণ করে দিল, গার্দিওলা এখনো আগের মতোই জাদুকর।

প্রিমিয়ার লিগে আপাতত চার পয়েন্টে এগিয়ে আছে আর্সেনাল, যাদের কোচ মিকেল আর্তেতা একসময় গার্দিওলারই সহকারী ছিলেন। কিন্তু সিটির এমন পারফরম্যান্সে এখন নিশ্চয়ই আর্তেতার ঘুম কিছুটা কমবে।

কেভিন ডি ব্রুইনা, কাইল ওয়াকার ও ইলকাই গুন্দোগাঁন, শিরোপাজয়ী তারকাদের বিদায়, নতুনদের মানিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম, সব মিলিয়ে সিটি যেন এক ধরণের রূপান্তরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল ২০২৩–২৪ মৌসুমের পর। মৌসুমের শুরুতেও প্রথম তিন ম্যাচের মধ্যে দুইটিতে হেরেছিল তারা। কিন্তু তারপর থেকে অবিশ্বাস্য ফর্মে ফিরে এসে শেষ ১৪ ম্যাচের ১১টিতে জিতেছে, একমাত্র হোঁচট অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে।

গার্দিওলার ৭১৬তম জয়ের দিনটা তাই শুধু ফলাফলের জন্য নয়, খেলার ধরনেও ছিল স্মরণীয়। প্রতিপক্ষ লিভারপুলকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলে সিটি। আর্লিং হালান্ড ছিলেন ভয়ংকর ধারালো, ফিল ফোডেন ফিরিয়ে এনেছেন পুরনো উজ্জ্বলতা, আর জেরেমি ডোকুর দুর্দান্ত গোল ভেজা বিকেলটাকে রঙিন করে তুলেছে।

সবচেয়ে আশ্চর্য, দলটি খেলেছে মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি ছাড়া। তিনি ফিরবেন আন্তর্জাতিক বিরতির পর, তাই এমন দিনে গার্দিওলার আনন্দ যেন দ্বিগুণ। ম্যাচশেষে সিটি সমর্থকদের ভালোবাসা উপভোগ করে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ধন্যবাদ দিতে চাই আমার খেলোয়াড়দের, স্টাফদের, আমাকে এই উপহার দেওয়ার জন্য। গর্বিত যে, ম্যানচেস্টারে, আমার সিটির সঙ্গে এমন মাইলফলক ছুঁতে পেরেছি। এখন বিশ্রাম, তারপর নতুন উদ্যমে ফিরব।’

২০০৭ সালে বার্সেলোনার দ্বিতীয় দলের কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন গার্দিওলা। সেই পথ পেরিয়ে আজ তিনি জিতেছেন ১২টি লিগ শিরোপা, ৩টি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য ট্রফি।

রোববারের মাইলফলক ম্যাচ শেষে তিনি স্মৃতিমেদুর হয়ে বলেন, ‘আমার বার্সেলোনা বি সময়টা ছিল ভিত্তি। সেখানেই বুঝেছিলাম আমি পারি, অনেক কিছু শিখেছিলাম। সেই প্রথম দলটিকে কখনো ভুলব না। পরিবারের সামনে, বিশেষ করে লিভারপুলের মতো দলের বিপক্ষে ১০০০তম ম্যাচ খেলতে পারা বিশেষ কিছু।’

এখনও গার্দিওলা আশাবাদী এই মৌসুম নিয়ে। বললেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ জেতার মূল কথা হলো প্রতিমাসে দলটা আরও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠা। যতদিন আমরা এমনভাবে এগোব, শেষ পর্যন্ত লড়াইটা আমাদের হাতের নাগালেই থাকবে।’

শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক, ‘আজকের জয়টা করো আমাদের জন্য, শুধু কারণ আর্সেনাল হেরেছে বলে নয়। প্রমাণ দাও, আমরা এখনো ইংল্যান্ডের সেরা দলের সমকক্ষ। আজ আমরা সেটা দেখিয়েছি।’

Popular

More like this
Related

সবাই যদি ভাবেন আমরা ৯ মাসে কুইক ফিক্স করে ফেলবো, সেটা তো হয় না: শফিকুল আলম

বাংলাদেশের মানুষ ভালো শাসনতন্ত্র চায়, বাংলাদেশের মানুষ সুশাসন চায়।...

গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানি ক্রয়াদেশ পেল প্রাণ

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্যের মেলা গালফ ফুড ফেয়ারে ৫৫...

‘আমি আমজনতার অভিনেতা, পরিচালকও হতে চাই আমজনতার’

ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত আছেন কয়েক দশক ধরে। হুমায়ূন...

সিডনির বিচে হামলাকারীদের একজন ভারতীয়: পুলিশ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হানুক্কা চলাকালে...