বাবার সামনে অভিষেকেই ঝলক, ইসাখিলের ব্যাটে জিতল নোয়াখালী

Date:

বাবা মোহাম্মদ নবি একাদশে নিয়মিত হলেও ছেলের জন্য সুযোগ আসছিল না। অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল, ধৈর্যও। অবশেষে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মিলল সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। আর বিপিএল অভিষেকেই বাজিমাত করলেন হাসান ইসাখিল। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে শুধু নিজের আগমন জানান দেননি, বাবার সঙ্গে গড়ে তুলেছেন স্মরণীয় এক জুটিও। তাতে প্রথম ছয় ম্যাচে টানা হারা নোয়াখালী এক্সপ্রেস পেল টানা দ্বিতীয় জয়।

রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান সংগ্রহ করে নোয়াখালী। জবাবে ১৮.২ ওভারে ১৪৩ রানেই থেমে যায় ঢাকা।

তবে নোয়াখালীর এই জয়কে ছাপিয়ে ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন সেই বাবা–ছেলে জুটি। বাবার সামনে পাওয়া প্রথম সুযোগটিকে দারুণ ব্যাটিংয়ে রাঙালেন ১৯ বছর বয়সী ইসাখিল। খেলেন ৬০ বলে ৯২ রানের ঝলমলে ইনিংস, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। এমন অসাধারণ অভিষেকের পুরস্কার হিসেবে ম্যাচসেরার ট্রফিটাও উঠেছে তার হাতেই।

ইনিংসের শুরুতেই সৌম্য সরকারের (৪৮) সঙ্গে ১০১ রানের বড় জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন ইসাখিল। এরপর ১৮ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নোয়াখালী। ঠিক তখনই বাবার সঙ্গে দায়িত্ব নেন এই তরুণ। চতুর্থ উইকেটে নবি-ইসাখিল জুটি যোগ করেন ৩০ বলে ৫৩ রান। এই জুটিতে ছেলের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ৩৪ রান, আর বাবার ব্যাটে ১৩ বলে ১৭।

আফগানিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে বাবা–ছেলের জুটি দেখা গেলেও বিপিএলের মঞ্চে এমন ঘটনা এই প্রথম। বাবার সামনে খেলা এই ইনিংসটি আরও স্মরণীয় হতে পারত। সেঞ্চুরি প্রায় ছুঁয়েই ফেলেছিলেন ইসাখিল। কিন্তু অষ্টাদশ ওভারের শেষ বলে নবি ১৭ রানে আউট হওয়ার পর আর রান যোগ করতে পারেননি তিনি। পরের ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বিদায় নেন ৯২ রানে থেমে।

ঢাকার বোলিংয়ে দুটি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। দলীয় ১৬ রানে রহমানুল্লাহ গুরবাজ আউট হওয়ার পর মাত্র ৩ রান যোগ করতেই হারায় মোট চারটি উইকেট। নাসির হোসেন ও সাইফ হাসান কোনো রান না করেই ফিরেন।

এরপর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন শামিম হোসেন পাটোয়ারি। কিন্তু নবির বলে শামিম ফিরতেই আবারও ভেঙে পড়ে ঢাকার ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় তারা।

শেষ দিকে সাইফউদ্দিনের ক্যামিওতে দেড়শর কাছাকাছি পৌঁছানোর আশা জাগলেও তা আর বাস্তব হয়নি। ২০ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন তিনি। মিঠুন করেন ৩৩, শামিমের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।

নোয়াখালীর বোলিংয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান রানা ও মোহাম্মদ নবি।

Popular

More like this
Related

সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আইসিসি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে দেয়নি: বিসিবি

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার...

মং রাজা মংপ্রু সাইন ও মং রাজবাড়ির যুদ্ধ

মং রাজবংশের সপ্তম রাজা মংপ্রু সাইন মুক্তিযুদ্ধকালে পার্বত্য চট্টগ্রামের...

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে কিনা— বুধবারের মধ্যে আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ এবং বিশেষ করে...

তফসিলের পর অনুমোদনহীন সমাবেশ-আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হবে সরকার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের...