বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্টে ঠাঁই নেই, স্পটগুলোতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

Date:

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পার্বত্য জেলা বান্দরবান যেন পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পাহাড়, মেঘ আর সবুজের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের ভিড়ে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কোনো খালি কক্ষ নেই—আগাম বুকিংয়ে প্রায় শতভাগ পূর্ণ সব আবাসন। শহরের আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কয়েকদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে বুকিং।

এদিকে, শহরতলীর জনপ্রিয় দুই পর্যটন কেন্দ্র মেঘলা ও নীলাচল—দুটিতেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। একইভাবে চিম্বুক ও নীলগিরিতেও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্পটগুলোর সংশ্লিষ্ট টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০টি প্রবেশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত এই স্পটগুলোতে পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকের অতিরিক্ত চাপে শহরের প্রধান সড়ক ও পাহাড়ি পথে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে নীলাচল ও মেঘলা অভিমুখী রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও ট্যুরিস্ট বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। 

তবে এসব ভোগান্তি পর্যটকদের আনন্দে ভাটা ফেলতে পারেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ি প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।

ঢাকা থেকে আসা কামরুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঈদের ছুটিকে অন্যরকম করে তুলেছে। ভিড় থাকলেও পরিবেশটা দারুণ উপভোগ করছি। বাচ্চাদের পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করাতেই পরিবারসহ বান্দরবানে এসেছি।’

গাজীপুর থেকে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হোটেল না পেয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে পাহাড়ের সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।’

জেলা হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে এবার পর্যটকের চাপ গত বছরের তুলনায় বেশি। অনেক পর্যটক হোটেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানের আবাসন কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় অবস্থান করছেন।’

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পরিকল্পিত অবকাঠামো, আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই চাপ আরও জটিল আকার নিতে পারে।

জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের সদর সার্কেলের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন খাঁন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সেবা ও সহযোগিতার জন্য জেলার প্রতিটি পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকেরা ভ্রমণে এসে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হলে জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে কল করলেই সেবা পৌঁছে যাবে।

যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।’

Popular

More like this
Related

বারবার লক্ষ্য বদলে ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক...

দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল

আশির দশকের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ও জমজমাট দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা অনুষ্ঠিত...

খালি নেই সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙ্গামাটি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায়...

রাজাবিরাটের সাঁওতালপল্লীতে নিজস্ব আমেজে ‘বাহা পরব’

মঞ্চের জাঁকজমক ছাড়াই একান্ত নিজেদের আয়োজনে ‘বাহা পরব’ বা...