বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৬ টাকা কমিয়ে ৭০ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ রোববার প্রথমবারের মতো নতুন দাম নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে বিইআরসি।
এর আগে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
বর্তমানে ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮৬ টাকা। আজ রোববার রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।
বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের জন্য মার্জিন ধরা হয়েছে লিটারপ্রতি দশমিক ৭১ টাকা ও পরিবহন চার্জ ১ দশমিক ২ টাকা।
গত ২৯ জানুয়ারি গণশুনানির পর এ সিদ্ধান্ত নেয় বিইআরসি।
সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এ তেলের প্রধান ক্রেতা। পাশাপাশি কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক ও শিল্পকারখানাও এই জ্বালানি তেল ব্যবহার করে।
গণশুনানিতে পিডিবি অভিযোগ করে, গত দেড় বছরে প্রকৃত সরবরাহ মূল্যের তুলনায় বিপিসি প্রায় ৬৪৪ কোটি টাকা বেশি আদায় করেছে।
পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে বিপিসির ক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ৫৭ থেকে ৮৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করলেও বছরে গড়ে লিটারপ্রতি ফার্নেস তেল বিক্রি হয়েছে ৮৬ টাকায়।
ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫০ দশমিক ৮৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় পিডিবি।
অন্যদিকে বিপিসি মাত্র ১ টাকা কমিয়ে লিটারপ্রতি ৮৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল।
বিপিসি বছরে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি করে থাকে।
২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেওয়া হয়।