ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরপেক্ষ নয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
এর আগে তিনি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘২২ তারিখে আমার প্রচারণার মাঠে থাকার কথা। কিন্তু বাধ্য হয়েই আমি আজ ঢাকায় এসেছি। কারণ, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রশাসন এবং পুলিশের যতটা নিরপেক্ষ থাকবার কথা ততটা নিরপেক্ষ নয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমার কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে, তাদের পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, মাথা ফাটানো হয়েছে, বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে এসেছি যেহেতু আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে আমাকে লড়াই করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি একদম স্ট্রেট নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে ২০১৮-এর নির্বাচনের মতো আরেকটা নির্বাচন হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। কারো জন্যই ভালো হবে না।’
সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে একটা সুষ্ঠ নির্বাচন যাতে হয়, সেজন্য মানুষ ১৫ বছর লড়াই করেছে। আমরা যে যেই দলেই ছিলাম, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে লড়াই করেছি। সো আরেকটা কারচুপির নির্বাচন, আরেকটা ম্যানিপুলেটেড ইলেকশন বাংলাদেশে আমরা হতে দেবো না।’
রুমিন ফারহানা জানান, আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবজার্ভারদের সঙ্গে তার বৈঠক রয়েছে। তিনি বলেন, তাদের কাছেও এসব বিষয় তিনি তুলে ধরবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, অন্তত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কারচুপির খেলার স্পর্ধা কোন রাজনৈতিক দল যেন না দেখায়।’
নির্বাচন নিয়ে ইসিতে করা অভিযোগগুলো যদি থেকে যায়, সে ক্ষেত্রে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ডেফিনেটলি নির্বাচনের মাঠে থাকবো এবং টাইম টু টাইম মিডিয়া কর্মীদের অবহিত করব, অবজার্ভারদেরকেও জানাবো। আমার হাতে যতটুকু রিসোর্স আছে, প্রত্যেকটা উপায় ব্যবহারের চেষ্টা করব।’
একটি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।