বাংলাদেশ জাতীয় দলের একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণাত্মক অস্ত্র, রাইট-ব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভুটানের বিপক্ষে একটি ফিফা প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর চোটে পড়ার পর প্রায় দেড় বছর মাঠের বাইরে ছিলেন। ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার, যার আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ৪৪, এখন ল্যাটারাল মেনিস্কাস কার্টিলেজ ইনজুরি থেকে সেরে উঠে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য প্রাথমিক দলে ফিরেছেন।
দ্য ডেইলি স্টারের আনিসুর রহমানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বনাথ কথা বলেছেন তার কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, ফেরার পথের অনিশ্চয়তা এবং চূড়ান্ত ২৩ জনের দলে জায়গা করে নিতে প্রয়োজনীয় দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে। সেই সাক্ষাতকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো—
দ্য ডেইলি স্টার: দীর্ঘদিন চোটের কারণে বাইরে থাকার পর জাতীয় দলের পরিবেশে ফিরে আসাটা কেমন লাগছে?
বিশ্বনাথ ঘোষ: সত্যি বলতে, মনে হচ্ছে যেন প্রথমবার দলে ডাক পেয়েছি। ১৭ থেকে ১৮ মাস বাইরে থাকার পর সবকিছুই নতুন মনে হচ্ছে, আর ফিরে আসতে পেরে দারুণ লাগছে। অনেকদিন ধরেই আবার মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম।
ডেইলি স্টার: কখনো কি মনে হয়েছিল আপনি হয়তো আর ফিরতে পারবেন না?
বিশ্বনাথ: হ্যাঁ, অবশ্যই। এত দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে মাঝে মাঝে মনে হতো, হয়তো আর ফেরা হবে না। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থাইল্যান্ডে আমার হাঁটুর অস্ত্রোপচার হয়, বসুন্ধরা কিংসের সহায়তায়। এরপর তিন মাস পুরোপুরি শয্যাশায়ী ছিলাম, শুধু ক্রাচের ভরসায় চলাফেরা করতাম। পরে বাসায় হালকা ব্যায়াম শুরু করি, তারপর সাঁতার, যেখানে পুলে ওঠা-নামার সময়ও অন্যের সাহায্য নিতে হতো। পুনর্বাসনটা ছিল ভীষণ কষ্টকর, প্রতিদিন গুনতাম কবে আবার ফিরতে পারব। অনেক সময় হতাশা ভর করত, কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে অসাধারণভাবে সমর্থন দিয়েছেন। ফিজিও সুফিয়ান ভাই, ডাক্তার তুষার ভাই, আমার ছোট ভাই সাইকত ও মঈন, এমনকি বলবয় মারুফ, এই সময়টায় সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। সবশেষে, আল্লাহর রহমতের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
ডেইলি স্টার: এই মৌসুমে আপনার প্রথম লিগ ম্যাচে, গত ডিসেম্বর আবাহনীর বিপক্ষে সেই চার মিনিট আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে?
বিশ্বনাথ: কোচ মারিও ও ট্রেইনার খলিল আমাকে বলেছিলেন আমি প্রস্তুত, আর আবাহনীর বিপক্ষে সুযোগ পাব। ম্যাচের আগে আমরা সাধারণত দল হিসেবে দোয়া করি, তারপর ২৩ জনের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। আমি অধীর আগ্রহে সেই মুহূর্তটার অপেক্ষায় ছিলাম। তালিকা প্রকাশে দেরি হচ্ছিল, তাই আমি স্ত্রীকেও ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন এখনো দেওয়া হয়নি। অবশেষে যখন নিজের নামটা দেখলাম, ভেতরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করলাম, যেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ম্যাচের আগে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, তবে ওয়ার্ম-আপের জন্য মাঠে নামার পর সতীর্থ, কোচ ও দর্শকদের সমর্থন সেই নার্ভাসনেস কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
ডেইলি স্টার: এই প্রত্যাবর্তনকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বিশ্বনাথ: আমার মূল লক্ষ্য হলো ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড় হয়ে ওঠা। ক্লাব পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারলে জাতীয় দলের ডাক আসবেই। ফুটবলে নামের কোনো মূল্য নেই, পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।
ডেইলি স্টার: হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো খেলোয়াড়রা কী পরিবর্তন এনেছেন?
বিশ্বনাথ: পুনর্বাসনের সময় আমি ম্যাচগুলো দেখতাম আর ফেরার আশা করতাম, এটা ছিল খুব কঠিন এক অনুভূতি। আমার মনে হয় না একজন-দুজন খেলোয়াড় সবকিছু বদলে দিতে পারে। আমাদের দল আগে যেমন ভালো ছিল, এখনও তেমনই ভালো, হামজা ও শমিতের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে। তবে আগে মাঠে নেতৃত্বের কিছুটা ঘাটতি ছিল। হামজা দলে যোগ দেওয়ার পর সেটা এসেছে, সে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং দলকে একসঙ্গে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
ডেইলি স্টার: হামজা ও শমিতের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে পেরে কি আপনি উচ্ছ্বসিত?
বিশ্বনাথ: এখনই সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমার পুরো মনোযোগ চূড়ান্ত ২৩ জনের দলে জায়গা করে নেওয়ার দিকে। প্রতিযোগিতা খুবই কঠিন, আর আমি জানি আমাকে পারফর্ম করতেই হবে।