পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন মরদেহটি বরিশালের গোপাল চন্দ্র দাসের (৪৫)। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনজুর আহম্মেদ সিদ্দিকী।
পেশায় ট্রাকচালক গোপাল চন্দ্র বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে।
গ্রেপ্তার দুইজন হলেন—বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪) ও পিরোজপুর সদর উপজেলার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)।
এসপি মনজুর আহম্মেদ বলেন, গোপাল, সম্রাট ও রাজু তিনজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। গত শুক্রবার বিকেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গোপালকে মোটরসাইকেলে বরিশাল থেকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সন্ধ্যা নদীর পাড়ে নিয়ে যায় রাজু ও সম্রাট। সেখানে গোপালকে হত্যা করা হয়। পরে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, নিহতের পকেটে থাকা একটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির পণ্য মেলার লিফলেট থেকে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
মনজুর আহম্মেদ আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার বরিশাল সদর উপজেলা থেকে সম্রাট ও বরিশাল নগরীর স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৮।
এসপি আরও বলেন, নিহতের মাথা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু নদীতে ফেলে দেওয়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
‘এ ঘটনায় নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন’, যোগ করেন তিনি।