ওপেনার ইশান কিষাণের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পেল ভারত। যদিও ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে তাদেরকে দুইশ রানের নিচে আটকে রাখল পাকিস্তান। তবে কলম্বোর উইকেটে লক্ষ্যটা ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। সেই রান তাড়ায় নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় রীতিমতো খাবি খেল পাকিস্তান। বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করল ভারত।
রোববার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইটি শেষ পর্যন্ত একপেশে ম্যাচে পরিণত হয়। পাকিস্তানকে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ধুঁকতে ধুঁকতে ১২ বল বাকি থাকতে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সালমান আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান।
সুপার এইটে ওঠার পাশাপাশি টানা তৃতীয় জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে ভারত। তাদের অর্জন পূর্ণ ৬ পয়েন্ট। এই জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতে ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে এমন বড় হারে বেশ বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। নেট রান রেটে পিছিয়ে যাওয়ায় তারা এখন পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে আগামী বুধবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে নামিবিয়ার বিপক্ষে হার এড়ানোর কোনো বিকল্প নেই তাদের।
অন্যদিকে, সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। নামিবিয়া শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও পাকিস্তান যদি সেই ম্যাচে কোনো অঘটনের শিকার হয়, তবে কপাল খুলতে পারে আমেরিকানদের।
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসির সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শুরুতে ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। পরবর্তীতে আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির মধ্যকার বৈঠকের পর তারা সেই অবস্থান পাল্টে খেলতে সম্মত হয়। তবে মাঠে নামলেও পুরনো উত্তাপই ছিল ম্যাচে। এশিয়া কাপের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হাত মেলানো থেকে বিরত থাকেন দুই দলের ক্রিকেটাররা।
ম্যাচসেরার পুরস্কারজয়ী ইশান খেলেন ৭৭ রানের দানবীয় ইনিংস। মূলত তার ব্যাটিংই গড়ে দেয় পার্থক্য। কারণ, উভয় দল মিলিয়ে আর কেউই এমন দ্রুত গতিতে রান তুলতে পারেননি। ২৭ বলে ফিফটি ছুঁয়ে তিনি টেকেন ৪০ বল। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও তিন ছক্কা। এছাড়া, তিলক বর্মা ২৪ বলে ২৫, সূর্যকুমার ২৯ বলে ৩২ ও শিবম দুবে ১৭ বলে ২৭ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে সাইম আইয়ুব ২৫ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট। তবে দলটির মূল বোলাররা ভীষণ হতাশ করেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি ১ উইকেট পেলেও ২ ওভারে দেন ৩১ রান। আবরার আহমেদের ৩ ওভারে ওঠে ৩৮ রান। একমাত্র ওভারে ১৭ রান দেওয়ার পর শাদাব খানকে আর আক্রমণে ফেরানো হয়নি।
লক্ষ্য তাড়ায় পঞ্চম ওভারে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তান আর দিশা খুঁজে পায়নি। উসমান খান ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৪ রান করলেও সঙ্গ পাননি। শেষদিকে শাহিনের ১৯ বলে অপরাজিত ২৩ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমায়।
ভারতের ব্যবহার করা সাত বোলারের ছয়জনই উইকেট প্রাপ্তির উল্লাস করেন। দুটি করে শিকার ধরেন হার্দিক পান্ডিয়া, জসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল। উইকেট যায় কুলদীপ যাদব ও তিলকের ঝুলিতেও। আগামী বুধবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আহমেদাবাদে ভারত মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডসের।