উৎসব, ইতিহাস আর প্রত্যাশার এক মিশেলে সাজানো ছিল রাতটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রূপ নিল এক বেদনাদায়ক স্মৃতিতে। দীর্ঘ সংস্কার শেষে নতুন রূপে ফিরে আসা কিংবদন্তি এস্তাদিও আজটেকার উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও পর্তুগাল গোলশূন্য ড্র করলেও, মাঠের বাইরের এক মর্মান্তিক ঘটনা ছাপিয়ে যায় সবকিছু।
১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটি প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর নতুন সাজে আত্মপ্রকাশ করে। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে এটি ছিল এক ধরনের ‘প্রস্তুতি মঞ্চ’। এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। তাই দর্শক, আয়োজক, সবাই অপেক্ষায় ছিলেন এক উৎসবমুখর সন্ধ্যার।
কিন্তু কিক-অফের আগেই নেমে আসে শোকের ছায়া। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে, স্ট্যান্ডের দ্বিতীয় স্তর থেকে পড়ে গিয়ে এক দর্শকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চললেও এই দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বদলে দেয় পুরো পরিবেশ, উল্লাসের জায়গা দখল করে নেয় নীরবতা ও শোক।
মাঠের ভেতরের চিত্রও ছিল কিছুটা নিস্তেজ। ইনজুরিতে জর্জরিত মেক্সিকো দলে অনুপস্থিত একাধিক মূল খেলোয়াড়। অধিনায়ক এদসন আলভারেজ এখনও গোড়ালির অস্ত্রোপচার থেকে সেরে উঠছেন, সান্তিয়াগো হিমেনেজ সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারও ছিটকে গেছেন। ফলে কোচ হ্যাভিয়ের আগুয়েরে বাধ্য হন একদম নতুন ও তরুণদের নিয়ে একাদশ সাজাতে।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেকেই নজর কাড়েন স্পেনে জন্ম নেওয়া মিডফিল্ডার আলভারো ফিদালগো। তার সঙ্গে ব্রায়ান গুতিরেজ ও অবেদ ভার্গাসদের সমন্বয় প্রথমার্ধে কিছুটা আশার আলো দেখায়। আক্রমণে রাউল হিমেনেজের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়াও খারাপ ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
অন্যদিকে, ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণের দায়িত্ব পান গিনসালো রামোস। যদিও কয়েকটি ভালো মুভমেন্ট ও দৌড় ছিল, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। মিডফিল্ডে ব্রুনো ফার্নান্দেজের তৈরি করা একটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে পর্তুগাল।