ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত অর্ধেক সংসদ সদস্যের মোট দায় বা ঋণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা গত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি (৭৯.৪৬ শতাংশ), যাদের মধ্যে ১৩ জন শতকোটিপতি। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যেরই দায় বা ঋণ রয়েছে, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ ও জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
আরও বলা হয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতকোটিপতি সংসদ সদস্যের নয়জনই বিএনপির এবং একজন স্বতন্ত্র। শীর্ষ ১০ ঋণ বা দায়যুক্ত সংসদ সদস্যের তালিকায় প্রত্যেকেই বিএনপির। জমির মালিকানার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কমপক্ষে ১ একর জমি আছে প্রায় ৬২ শতাংশ সংসদ সদস্যের, সংখ্যায় ১৮৪ জন, যা গত ৪টি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচিত সদস্যদের পেশাভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের (প্রায় ৬০ শতাংশ) সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, যদিও নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত চারটি সংসদের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষক (৮.১ শতাংশ) সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন, রাজনীতিবিদদের সংখ্যা সর্বনিম্নে। এ ছাড়া আইন পেশায় রয়েছেন ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।
‘ত্রয়োদশ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং গত ৪টি নির্বাচনের তুলনায় সবচেয়ে কম। অর্থাৎ এবার মাত্র সাতজন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নবম সংসদে ১৪ জন, দশম সংসদে ২০ জন, একাদশ সংসদে ২২ জন এবং দ্বাদশ সংসদে ২০ জন নারী সদস্য ছিলেন।’
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে আচরণবিধি পালনে পরিপূর্ণ সফল হননি। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হলেও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের মধ্যে ‘বিজয়ী হতেই হবে’ এই চর্চা অব্যাহত ছিল।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিকে সুস্থ প্রতিযোগিতার উপাদানগুলো আমরা দেখেছি। কিন্তু নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসতে আসতে তা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত হয়েছে। এ ছাড়া পতিত কর্তৃত্ববাদী শক্তির ঘোষিত নির্বাচনবিরোধী অবস্থান ও তৎপরতার ফলে অস্থিতিশীলতার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন পরস্পরবিরোধী দুটি জোটের প্রার্থীদের একাংশ এবং দলের মনোনয়ন না পেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের অনেকের মধ্যে এই ত্রিমুখী অসহিষ্ণুতা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহিংসতা হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই কয়েকটি বিষয়ের কারণে সুস্থ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ব্যাহত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপাদান মনোনয়নসহ প্রচার-প্রচারণাকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বলতে যা বোঝায়, সেটি কতটুকু হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনা করা দরকার।