দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনাল জিততেও আত্মবিশ্বাসী অ্যালেন

Date:

শিরোপার স্বপ্ন যখন আর মাত্র এক ধাপ দূরে, তখন আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় পুঁজি। আর সেই আত্মবিশ্বাসই এখন টগবগ করে ফুটছে নিউজিল্যান্ড শিবিরে। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করার পর নায়ক ফিন অ্যালেন জানিয়ে দিয়েছেন, ফাইনালের আগে এই জয় তাদের জন্য ‘বিশাল আত্মবিশ্বাসের উৎস’।

কলকাতার ঐতিহাসিক ইন্ডেন গার্ডেন্সে সেমিফাইনালে একতরফা লড়াইয়ে ৯ উইকেটে হারে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর ম্যাচটি একাই নিজের করে নেন অ্যালেন। মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম শতক। তার ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা। ১৭০ রানের লক্ষ্য নিউজিল্যান্ড ছুঁয়ে ফেলে ৭.১ ওভার হাতে রেখেই।

২০২৪ সালের রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত। আইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দলটির বিপক্ষে এমন দাপুটে জয় স্বাভাবিকভাবেই কিউইদের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করেছে। অ্যালেন বলেন, ‘ওরা কঠিন দল। লম্বা, দ্রুতগতির বোলার আছে, ব্যাটাররাও শক্তিশালী। এমন ইন-ফর্ম দলের বিপক্ষে জেতা আমাদের জন্য বিশাল আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।’

রোববার আহমেদাবাদে ফাইনালে ভারতের বা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ড সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু হবে সোমবার ভোর প্রায় আড়াইটায়। তবুও দেশের সমর্থকেরা জেগে থেকে দলকে সমর্থন দেবেন বলেই বিশ্বাস অ্যালেনের।

‘নিশ্চিতভাবেই আমার বাবা-মা জেগে খেলা দেখছেন। আশা করি তারা গর্বিত। পুরো দেশ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়,’ বলেন অকল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই ওপেনার।

সেমিফাইনালের মঞ্চে ওঠার আগে অ্যালেনের টুর্নামেন্ট ছিল মোটামুটি। গ্রুপ পর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রান ছাড়া বড় ইনিংস ছিল না। কিন্তু নকআউটের চাপের ম্যাচে তিনি যেন অন্য রূপে হাজির হন।

ওপেনিং সঙ্গী টিম সেইফার্টের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের ভিত তৈরি করেন অ্যালেন। সেইফার্ট করেন ৫৮ রান। কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিদির মতো মানসম্পন্ন পেস আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেন দু’জন।

শুরুর দিকে আগ্রাসী ছিলেন সেইফার্ট, ২১ বলে ৪১ রান করে চাপ তৈরি করেন। এরপর অ্যালেন নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষদিকে টানা দুই ছক্কা ও বাউন্ডারিতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

সঙ্গীর প্রশংসায় অ্যালেন বলেন, ‘টিমি অসাধারণ ফর্মে আছে। ওর সঙ্গে ব্যাটিং করলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। ও কী করতে পারে, সেটা এখন পুরো বিশ্ব দেখছে।’

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠে নেট রানরেটের ব্যবধানে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেই সাত উইকেটে হেরেছিল তারা। তবে বিশ্বকাপের আগে ভারতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হার, সেই অভিজ্ঞতাই কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতা গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন অ্যালেন।

‘ভারত সফরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কালো মাটির উইকেটে পাঁচ ম্যাচ খেলা আমাদের প্রস্তুত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত। এটাই তার প্রমাণ,” বলেন তিনি।

 

Popular

More like this
Related

ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান কোথায় অবস্থান করছে, সেই...

প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) নিয়ে স্থবিরতা কাটছে না। ক্লাব...

আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদের দিনব্যাপী সৃজনশীল কর্মশালা

আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো দিনব্যাপী...

মিষ্টি কুমড়া চাষিদের মাথায় হাত, দাম কমায় বেশি বিক্রি হচ্ছে আলু

রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে...