বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির শীর্ষ নেতারা।
অভিনন্দনবার্তায় তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে মূল্যবান অংশীদারত্ব রয়েছে। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তুলতে আপনার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রাখে অস্ট্রেলিয়া।’
নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি তারেক রহমানকে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মুর্তাজা সোলাঙ্গি এক্সে জানান, তারেক রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এবং এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বার্তায় আশা প্রকাশ করা হয়, নবনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের জনগণকে গর্বিত করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মুখপাত্র আরও জানান, এই পুরো প্রক্রিয়া পাকিস্তানের জনগণের জন্যও আনন্দদায়ক এবং তারা বাংলাদেশের জনগণ ও নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, নতুন সরকার ও সংসদ যেন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারে—সেই প্রত্যাশা সুইজারল্যান্ডের।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সুইজারল্যান্ড। এছাড়া কূটনৈতিক, বহুপাক্ষিক, অর্থনৈতিক ও জনগণে জনগণে সম্পর্ক আরও জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে দেশটি।
এদিকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করা তার জন্য সম্মান ও আনন্দের বিষয় ছিল।
তিনি নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নতুন দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিষেক উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং।
বার্তায় লি চিয়াং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দুই দেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস অনেক পুরোনো। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর গত ৫১ বছরে চীন ও বাংলাদেশ সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে।
চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার যেন নির্বিঘ্নে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে—সে বিষয়ে চীন সরকার সমর্থন জানায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিতে চীন প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
একইসঙ্গে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা জোরদার করতে চায় চীন। বিভিন্ন খাতে বিনিময় বৃদ্ধি এবং চীন–বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।