দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডাবল সুপার ওভারের সেই শ্বাসরুদ্ধকর হার। হাত থেকে জয় ফসকে যাওয়ার পর যেকোনো ক্রিকেটারেরই মাথা গরম হওয়ার কথা। কিন্তু আফগান ক্যাপ্টেন রাশিদ খান আর তার দলবল বেছে নিলেন এক অভিনব ‘অ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট’ থেরাপি। মাঠের রাগ তারা ঝাড়লেন ডাল মাখানি আর তন্দুরি চিকেনের ওপর!
দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে একগাল হেসে রাশিদ শোনালেন সেই মজার গল্প। তিনি বলেন, ‘আমরা আহমেদাবাদে ছিলাম এবং ম্যানেজারকে খাবার অর্ডার করতে বললাম। পেশোয়ারি খাবার: তাদের ডাল বুখারা, ডাল মাখানি; আমি তাকে বললাম এগুলো অর্ডার করতে এবং সঙ্গে কিছু তন্দুরি চিকেন আনতে, যাতে আমরা সেগুলোর ওপর নিজেদের রাগ ঝাড়তে পারি।’
অর্থাৎ, প্রোটিয়া বোলারদের ওপর যে রাগটা ঝাড়ার কথা ছিল, সেটা গিয়ে পড়ল বেচারা তন্দুরি চিকেনের ওপর। একেই বোধহয় বলে ‘কমফোর্ট ইটিং’।
তবে এই পেটপুজোর পেছনে কেবল রসনা বিলাস ছিল না, ছিল দলের একতা ধরে রাখার এক গভীর দর্শন। রাশিদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হারের জন্য তিনি কাউকে এককভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে রাজি নন। তার ভাষায়, ‘কারো বলা উচিত নয় যে সে এটা করেছে বা ওটা করেছে, কারণ এটি দলের মধ্যে নেতিবাচকতা নিয়ে আসে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে হারেনি, শুধু আমাদের দল হেরেছে।’
রাশিদের মতে, ডাল মাখানির বাটি সামনে নিয়ে বসাটাই ছিল ড্রেসিংরুমের গুমোট ভাব কাটানোর সেরা উপায়। তিনি যোগ করেন, ‘যখন আপনারা খেলোয়াড়দের দোষ দেন, তখন আমি খেলার চেয়েও বেশি হতাশ হই। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি।’
এই হারের ক্ষত রাশিদকে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের সেই বিভীষিকাময় রাতের কথা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সেই অতিমানবিক ইনিংসের কথা মনে করে রাশিদ বলেন, ‘২০২৩ বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ২০২৪ বিশ্বকাপে তাদের হারানোর আগ পর্যন্ত আমার মাথা থেকে নামেনি।’ এবারও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারটা ভুলে যাওয়ার ওষুধ হিসেবেই তারা বেছে নিয়েছেন একসঙ্গে বসে ইতিবাচক গল্প আর ভালো খাবার।
দিল্লিতে আসার পর এক সাংবাদিক তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন স্থানীয় ‘লাজপত নগর’ এলাকায় গিয়ে আফগান খাবারের স্বাদ নিতে। কিন্তু রাশিদ হেসেই জানালেন, এখন আর সেই দিন নেই। তার ভাষায়, ‘আগে আমরা যেতাম যখন আমরা খুব একটা বিখ্যাত ছিলাম না। এখন সেখানে যাওয়া একটু কঠিন।’
আফগানদের এই ‘ফুড থেরাপি’ আগামী ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে কতটা কাজে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতত চলতি বিশ্বকাপে তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়াটা অসম্ভবের কাছাকাছি, যা নিজেদের হাতেও নেই।