জ্বালানি তেল ক্রয়ের সীমা উঠছে আজ

Date:

ঈদের যাতায়াত সহজ করতে আজ রোববার থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল কেনার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আগের মতোই কেনা যাবে।

সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে এবং ছুটির সময় কোনো সংকট হবে না। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগের সাত দিন ও পরের পাঁচ দিন হাইওয়ের সব জ্বালানি পাম্প ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, লাখ লাখ মানুষ যখন শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর চাপ কমাতে এই সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে সকাল থেকেই ছিল দীর্ঘ লাইন। পরিবাগ এলাকার মেঘনা ফিলিং স্টেশনে গাড়ির লাইন শাহবাগ মেট্রো স্টেশন ছাড়িয়ে পাশের মোড় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি, উল্টো কাছের পূর্বাচল ট্রেডার্সে জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। একইভাবে বিজয় সরণির কাছে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে যায়।

খুলনা ও ফরিদপুর অঞ্চলের পাম্প মালিকরা তিনটি ডিস্ট্রিবিউটর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে তেল নেওয়া বন্ধ রেখেছেন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না।

খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন জানান, পাম্প মালিকরা কয়েক দিন ধরে চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল পাচ্ছেন। একটি পাম্পের দৈনিক চাহিদা যেখানে ১০ হাজার লিটার, সেখানে তারা পাচ্ছে মাত্র ২ হাজার লিটারের মতো। অনেক ক্ষেত্রে ডিপো থেকে সব ধরনের তেলের বদলে মাত্র এক বা দুই ধরনের তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু পাম্পে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে ও সেখানে চাপও কিছুটা কম ছিল।

গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের খবরের পর মানুষের মধ্যে জ্বালানি মজুত করার এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কর্তৃপক্ষ মোটরসাইকেলের জন্য ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটারের সীমা বেঁধে দিয়েছিল।

সূত্র জানিয়েছে, সরকার ঈদের সময় এই সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, ঈদের ছুটিতে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।

গতকাল পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল মজুত ছিল। এছাড়া অকটেন ও পেট্রোল মজুত ছিল প্রায় ১৬ হাজার টন করে, যা আগামী অন্তত ১৫ দিনের জন্য যথেষ্ট।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের পর মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আশ্বস্ত করেন যে, গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হবে। তিনি পরিবহন মালিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেলের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অগ্রিম টিকিট বাতিল বা টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না। তিনি স্পষ্ট জানান যে, কেনা সব অগ্রিম টিকিট কার্যকর থাকবে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ঈদের সময় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরার সময় জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ যেন সমস্যায় না পড়ে। আমরা ইতোমধ্যে পরিবহন খাতকে আশ্বস্ত করেছি যে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

শ্রীকাইল-৫ কূপটি থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা ৮-১০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১২ সালে আবিষ্কৃত এই গ্যাসক্ষেত্রের চারটি কূপ থেকে ইতোমধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস উত্তোলিত হয়েছে এবং এখনও এখানে প্রায় ১৪৫ বিসিএফ গ্যাস মজুত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাপেক্সের মতে, শুধু শ্রীকাইল-৫ কূপেই আনুমানিক ৪০ বিসিএফ গ্যাস আছে, যার মধ্যে ২৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের দাম দেশীয় বাজারমূল্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে এলএনজি আমদানির খরচের সাথে তুলনা করলে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা।

প্রতিমন্ত্রী অমিত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।

তিনি আরও জানান, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন নতুন ও পুরোনো কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সংকটের মুখে ফেলছে। যখন একটি দেশ আমদানিনির্ভর হয়, যেকোনো বৈশ্বিক সংকট তাকে ঝুঁকিতে ফেলে। যদি আমরা দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারি, তবে এই ঝুঁকিগুলো সামলানো সহজ হবে।

Popular

More like this
Related

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশ অপরিবর্তিত

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে এসে টস হারলেন বাংলাদেশের...

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সমীকরণ মিলছে কি?

ধরে নেওয়া যেতে পারে যে বেশ ভালো পরিকল্পনা নিয়েই...

নেতানিয়াহুকে খুঁজে হত্যার হুমকি আইআরজিসির

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, তারা ইসরায়েলের...

সিঙ্গাপুরের পথে মির্জা আব্বাসের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা...