ইব্রাহিম জাদরানের অপরাজিত ৯৫ রানের ঝলক আর মোহাম্মদ নবীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভর করে আফগানিস্তান দল আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে কানাডাকে ৮২ রানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেয়েছে। হতাশাজনক একটি টুর্নামেন্ট শেষ করলেও শেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে আফগানরা।
টস জিতে কানাডা আফগানিস্তানকে আগে ব্যাট করতে পাঠালে ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। ৫৬ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় অপরাজিত ৯৫ রান করে তিনি ৪ উইকেটে ২০০ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন দলকে।
২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করা কানাডার জন্য শুরু থেকেই কঠিন ছিল। শিশিরের কথা ভেবে অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও আফগানিস্তানের ইনিংসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি দলটি। বিশেষ করে দুটি সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় অতিরিক্ত ৬২ রান খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।
ইনিংসের শুরুতে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমানুল্লাহ গুরবাজ মিলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন। দ্বিতীয় ওভারেই গুরবাজ ৭ রানে আউট হতে পারতেন, যদি উইকেটকিপার শ্রেয়াস মোভা কঠিন ক্যাচটি নিতে পারতেন। পরে জাস্কারন সিং চার বলের ব্যবধানে গুরবাজ (৩০) ও গুলবাদিন নায়েবকে (১) আউট করে পাওয়ারপ্লে শেষে কিছুটা ম্যাচে ফেরান কানাডাকে।
তবে আরেকটি বড় ভুল হয় যখন কলিম সানা লং-অন এলাকায় ৫৪ রানে জাদরানের ক্যাচ ফেলে দেন, যা আনশ প্যাটেলের প্রাপ্য উইকেট হতে পারত। মাঝের ওভারগুলোতে সেদিকুল্লাহ আতালের ৪৪ রানের সহায়তায় জাদরান ৩৩ বলে তার ১৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন।
শেষ পর্যন্ত জাদরান অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করেন। শেষ দুই বলে দুটি চার মেরে আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে ২০০ রানে নিয়ে যান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর।
রান তাড়ায় কানাডার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নবনীত ধালিওয়ালের ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংস শেষ হয় মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে। আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি করা যুবরাজ সামরাও বড় কিছু করতে পারেননি, প্রথম বলেই চার মারলেও শেষ পর্যন্ত ১৭ রান করে আউট হন।
হার্শ ঠাকের (৩০) ও সাদ বিন জাফর (২৮) কিছুটা লড়াই করলেও কখনোই আফগানিস্তানকে চাপে ফেলতে পারেননি। ফলে সহজ জয় নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে আফগানিস্তান। অভিজ্ঞ স্পিনার মোহাম্মদ নবী টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং (৪/৭) করে কানাডাকে ৮ উইকেটে মাত্র ১১৮ রানে আটকে দেন।
আফগান অধিনায়ক রশিদ খান ম্যাচ শেষে বলেন, “আমরা এই প্রতিযোগিতার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, খুব কাছাকাছি গিয়েও পারিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি (ডাবল সুপার ওভারে হার) আমাদের পিছিয়ে দেয় এবং সেটিই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে।”
এই ম্যাচটি আফগানিস্তান দলের কোচ হিসেবে সাবেক ইংল্যান্ড ব্যাটার জোনাথন ট্রট–এর শেষ ম্যাচও ছিল। ২০২২ সালের জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই টুর্নামেন্ট দিয়েই তার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।