গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় সিয়াম (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের হাসপাতালের পেছনের পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকানো মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সিয়াম একই গ্রামের লিখন মিয়ার ছেলে এবং মুকসুদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সিয়ামের চার বন্ধু তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। হত্যার পর মরদেহটি বাঁশবাড়ীয়া হাসপাতালের পেছনের পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
হত্যার পর অভিযুক্তরা সিয়ামের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয় এবং সেটি বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিয়াম ৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ তদন্তে নামে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে সিয়ামের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই বন্ধু পারভেজ মুন্সী ও দিদার মুন্সীর জবানবন্দিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাতে পুলিশ পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সিয়াম ও তার বন্ধুরা একসঙ্গে চলাফেরা করত। নিজেদের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে মনোমালিন্য ও বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।