বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র চমৎকার এক গোল উপহার দেন। তবে মঙ্গলবার রাতের সেই জয়ের আনন্দের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ব্রাজিলীয় এই ফরোয়ার্ডের প্রতি করা বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচটি উত্তেজনায় প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে। ভিনিসিয়ুস রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের কাছে অভিযোগ করেন, বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি তাকে ‘বানর’ ডেকেছেন। বাকবিতন্ডার পর রিয়ালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যান।
২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার প্রেস্তিয়ানি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে কথা বলার সময় তাকে নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে দেখা গেছে।
২০১৮ সালে ফ্লামেঙ্গো থেকে স্পেনে আসার পর থেকেই বর্ণবাদের বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস। বিশেষ করে স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলে তিনি বারবার এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণের শিকার হয়েছেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ সমর্থকরা একটি সেতুর নিচে তার কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। এর চার মাস পর ভ্যালেন্সিয়ার মেস্তায়া স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি তর্কে জড়ান তিনি। সেই ঘটনাটি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে।
২০২৪ সালে ভ্যালেন্সিয়ার তিন সমর্থকের জেল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ভিনিসিয়ুস লিখেছিলেন, ‘আমি বর্ণবাদের শিকার নই, আমি বর্ণবাদীদের যম।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, স্পেনের ইতিহাসে এই সাজা কেবল তার জন্য নয়, বরং সব কৃণাঙ্গ মানুষের জয়।
২০২৫ সালেও রিয়াল ভায়াদোলিদের পাঁচ সমর্থককে একই অপরাধে সাজা দেয় আদালত। সেটিই ছিল স্পেনে ফুটবল স্টেডিয়ামে করা অপরাধের জন্য প্রথম ‘ঘৃণা অপরাধ’ সংক্রান্ত রায়।
বেনফিকা ম্যাচে বর্ণবাদের অভিযোগটি ছিল সরাসরি একজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্ণবাদীরা আসলে কাপুরুষ। তারা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলে’
সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে প্রেস্তিয়ানিকে টুর্নামেন্ট থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ছেলেটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার কোনো যোগ্যতাই নেই।’
তবে ভিনিসিয়ুসের খেলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহো। আমাজন প্রাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পরোক্ষভাবে ভিনিসিয়ুসকেই দায়ী করে বলেন, ‘যে স্টেডিয়ামে ভিনি খেলে, সেখানেই কিছু একটা ঘটে। নিশ্চয়ই কোথাও কোনো সমস্যা আছে।’
সমালোচকরা মনে করেন, ভিনিসিয়ুসের অতিমাত্রায় ড্রিবলিং এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নাস্তানাবুদ করার প্রবণতা প্রতিপক্ষ সমর্থকদের খেপিয়ে তোলে। গোল করার পর তার নাচ বা গ্যালারির দিকে তাকিয়ে করা অঙ্গভঙ্গিকেও অনেকে উস্কানিমূলক বলে মনে করেন।
বেনফিকার বিপক্ষে গোলের পর তিনি কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে নাচ শুরু করলে দর্শকরা তার দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে। সেই উত্তেজনার রেশ ধরেই প্রেস্তিয়ানির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।
এমবাপে অবশ্য তার সমর্থনে লিখেছেন, ‘নাচো ভিনি, দয়া করে কখনো থামবে না। আমরা কী করতে পারি আর কী পারি না, তা তারা শিখিয়ে দিতে পারবে না।’
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার কারণে ভিনিসিয়ুস এখন আরও বেশি আক্রমণের মুখে পড়লেও মাঠের লড়াইয়ে তিনি এখনো অদম্য।