কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষক ও কৃষানিরা ভালো থাকলে পুরো বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তাই তাদের কল্যাণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
আজ সোমবার দিনাজপুরের কাহারোলে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কৃষকের পাশে দাঁড়ানো। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকের বন্ধু। আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকারও কৃষকের বন্ধু। আমরা কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি জানান, কৃষকদের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যে খাল খনন, কৃষক কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলাগুলোর বেকারত্ব দূর করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় কৃষিপ্রধান এলাকা। এসব জেলায় কৃষিজাত পণ্য নিয়ে কাজ করা বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে। ঈদের পর তাদের নিয়ে বসব। এখানে কী ধরনের কৃষিনির্ভর কলকারখানা করা যায়, যাতে স্থানীয় বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থান হয়, সেই উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।’
বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যে মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে, আমরা চাই আগামী দুই-চার বছরের মধ্যে তার আয় যেন দশ হাজার টাকায় পৌঁছায়। এমন পলিসি নিতে চাই, যাতে মানুষের আয় দ্বিগুণ হয়। এটাই শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি এবং আপনাদের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের রাজনীতি।’
দেশকে নিয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের কাছে অনেকেই সে দেশের সৌন্দর্যের গল্প শোনেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘ওদের দেশ কি কোনো জিন-ভূত এসে বানিয়ে দিয়ে গেছে? ওই দেশের মানুষই তো তাদের দেশ সুন্দর করেছে। তাহলে আমরা কেন পারব না?’
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের মানুষই একাত্তরে যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছে। শহীদ জিয়ার আমলে খাল খননের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করে বিদেশে রপ্তানি করেছিল। এ দেশের মানুষ এত কিছু করতে পারলে, আপনারাই আগামীর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবেন।’
তবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকেই মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত করতে চায়। যারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করা, সাধারণ মানুষের জন্য ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’