বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও সুরক্ষা) আইন অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ শিকার, কেনাবেচা বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে মাছের মেলায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিপন্ন প্রজাতির বিশালাকৃতির বাঘাইড় মাছ। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের নতুনবাজার মাঠের মাছের মেলায় দেখা গেছে, বিশালাকৃতির বাঘাইড় মাছ সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর এই দুই মেলা বসে।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ ধরা ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু মেলায় এ আইন মানার কোনো বালাই নেই।
শেরপুর মেলায় ৮৫ কেজির বেশি ওজনের একটি বাঘাইড় নিয়ে আসেন ব্যবসায়ী আরবেশ মিয়া। তিনি বলেন, মাছটি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন এলাকার মেঘনা নদী থেকে ধরা। দাম হাঁকেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এই মাছ ধরা ও বিক্রি যে নিষিদ্ধ, তা জানেন কি না—এমন প্রশ্নে আরবেশ মিয়া বলেন, ‘জানি, তবে মেলায় সবকিছুই বৈধ। এই মাছগুলোই তো মেলার প্রধান আকর্ষণ।’
হবিগঞ্জের নতুনবাজার মেলায় ১০০ কেজি ওজনের বাঘাইড় নিয়ে এসেছেন বাহুবল উপজেলার ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ। তিনি দাম চান ২ লাখ টাকা। তিনি জানান, মাছটি কুশিয়ারা নদী থেকে ধরা হয়েছে। তবে এটি ধরা ও বিক্রি যে নিষিদ্ধ, তা তার জানা নেই বলে দাবি করেন।
খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বাঘাইড় বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘বাঘ মাছ’ বন্য প্রাণী আইনের তফসিলভুক্ত একটি সুরক্ষিত প্রজাতি। বিপন্ন এই মাছ এভাবে বিক্রি হতে থাকলে প্রজাতিটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আইন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং মেলার ভেতরে মাইকিং করে ঘোষণা দিলে এই অবৈধ বাণিজ্য অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, বাঘাইড় মাছ বিক্রির বিষয়টি তার জানা ছিল না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।