ইরান যুদ্ধ কয়েক মাস নয় বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি আরও বলেছেন, কোনো স্থলসেনা ব্যবহার না করেই তারা তাদের সব লক্ষ্য অর্জন করবেন।
ফ্রান্সে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিও সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
রুবিও বলেন, ‘ওয়াশিংটন এই অভিযানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছে। আমরা আশা করছি, কয়েক মাসের নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উপযুক্ত সময়ে এটি শেষ হবে।’
স্থলসেনা প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্টের হাতে ‘সর্বোচ্চ বিকল্প’ রাখা হচ্ছে। এ কারণে কিছু সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেই ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।
ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে মেরিন সেনার দুটি দল ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দলটি মার্চ মাসের শেষ দিকে একটি বিশাল উভচর জাহাজে করে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পেন্টাগন ওই অঞ্চলে আরও ছত্রীসেনা মোতায়েন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনা মোতায়েনের কারণে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের এক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই হামলায় বেশ কয়েকটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে ৩০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, আহতদের মধ্যে ২৭৩ জন ইতিমধ্যে কাজে ফিরেছেন। এ ছাড়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান ইসরায়েলের দিকে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে তেল আবিব এলাকায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ।
ইরানে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ইরানের একটি বাতিল করা ভারী পানির পারমাণবিক চুল্লি এবং ইউরেনিয়াম উৎপাদনের কারখানায় হামলা হয়েছে। তবে এতে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঘটনা বা বিপদের শঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (আইএইএ) এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ইয়েলো কেক কারখানায় তেজস্ক্রিয়তা বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জানজানে একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে শনিবার ভোরে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে।
আলোচনা নাকি সংঘাত?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে বলে দাবি করলেও তেহরান তা বারবার অস্বীকার করে আসছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন। তা না হলে দেশটির বেসামরিক জ্বালানি গ্রিডে হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের আশা করছে। ট্রাম্পের ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাব ইরান শিগগিরই দেবে বলেও তিনি আশাবাদী।
তবে শুক্রবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শিল্প ও পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার জবাব দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—এটি মেনে নেওয়া যায় না।’