ওমানের বৈঠক বিলম্বিত, চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

Date:

অল্প সময়ের মধ্যেই ওমানের রাজধানী মাসকাটে শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৈঠক শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হবে বলে জানা গেছে। দুপুর ১টা বা আরও পরে শুরু হতে পারে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। 

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এএফপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  

আজ শুক্রবারের বৈঠকটি বুধবার দিনের শেষভাগে নিশ্চিত হয়। 

অবস্থান, সময় ও বৈঠকের কাঠামো নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে আপাতত আর এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই। 

ইতোমধ্যে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই পৌঁছে গেছেন বলে জানা গেছে।  
এর আগে গত বছরের জুনে ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছিলেন। তবে ওই যুদ্ধ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ মুহূর্তের অংশগ্রহণে পাল্টে যায় দৃশ্যপট।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। 

তবে তাদের সঙ্গে দরকষাকষির টেবিলে আরও অনেকেই থাকবেন। 

মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকবে ওমান। 

আলোচনাকে সামনে রেখে আরাকচি তার এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘গত বছরের স্মৃতিগুলো মাথায় রেখে, খোলা মন নিয়ে কূটনীতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ইরান। আমরা সদিচ্ছা নিয়ে এসেছে। নিজেদের অধিকার রক্ষায় আমরা অবিচল।’ 

‘যার যার অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো শুধু মুখের কথা নয়—এগুলো নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়গুলোই টেকসই চুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে’, যোগ করেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার ইরান জানায়, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘কূটনৈতিক সমাধানে যাওয়ার যেকোনো সুযোগকে হেলাফেলা না করার একটি দায়বদ্ধতা আছে’ তাদের। 

ওয়াশিংটনও দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং বাস্তবতা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে আলোচনায় অংশ নেবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করে তেহরান। 

অপরদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করবেন যাতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। 
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের হাতে ‘কূটনীতি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিকল্প আছে’। 

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) আলোচনা করতে চায়।’

‘তারা চায় না আমরা তাদের ওপর হামলা চালাই। (আরা জানে) আমাদের একটি বড় নৌবহর (তাদের দেশের দিকে) রওনা হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি। 

আরব সাগরে মোতায়েন করা রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও অন্যান্য নৌযানের প্রতি ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন মার্কিন নেতা। 

এর আগে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের সমালোচনায় মুখর ছিলেন ট্রাম্প। ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে’ হামলা করা হবে বলে হুমকিও দেন এই বিশ্বনেতা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যের সুর পাল্টেছে। 

তিনি এখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির রাশ টেনে ধরার উদ্যোগে নেমেছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে যাওয়া উচ্চ-মানের ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় ইরান।  

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার সিরিয়াসএক্সএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প ‘বিভিন্ন বিকল্প হাতে রেখেছেন।’

‘তিনি (ট্রাম্প) সবার সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি সেনা ব্যবহার না করে তার লক্ষ্যপূরণের চেষ্টা করবেন। কিন্তু তার যদি মনে হয় সামরিক অভিযান ছাড়া লক্ষ্য পূরণের আর কোনো উপায় নেই, তাহলে তিনি সেটাই করে দেখাবেন’, যোগ করেন ভ্যান্স।

Popular

More like this
Related

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই শাহজালালের কার্গো কমপ্লেক্সের আগুন: তদন্ত প্রতিবেদন

বৈদ্যুতিক আর্ক ও পরবর্তী শর্ট সার্কিট থেকেই হযরত শাহজালাল...

আফ্রিকা কাপের মঞ্চে প্রত্যাশার ভারে চাপে মরক্কো

আফ্রিকার ফুটবল মানচিত্রে সবচেয়ে আলোচিত আসর আফ্রিকা কাপ অব...

চট্টগ্রামে সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ৫ দিন পর বদলি হলেন এসআই

চট্টগ্রাম আদালতে জেলা কোর্ট ইন্সপেক্টর সোহেল আহম্মদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে...

প্রতিযোগিতা বাড়াতে ‘নেশন্স লিগ’ চালু করতে যাচ্ছে এএফসি

এশিয়ার জাতীয় দলগুলোর প্রতিযোগিতার মান আরও বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক...