টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে দাম। এ অবস্থায় সংকট কাটাতে আগামী ৩০ দিনের জন্য ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে আসতে পারে।
ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা লাইসেন্সে বলা হয়েছে, বিক্রি বা সরবরাহের জন্য প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আওতায় ইরানের তেল যুক্তরাষ্ট্রেও আমদানি করা যাবে।
লাইসেন্স অনুযায়ী, জাহাজে আগে থেকে তোলা আছে এমন ইরানি তেলই বিক্রি বা সরবরাহের জন্য অনুমতি পাবে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশ প্রয়োজ্য নয়। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই অনুমতি।
কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ক্রিমিয়া অঞ্চল এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের তেল আমদানি করেনি। তবে এ সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের মতো বড় ক্রেতাদের মাধ্যমে এশিয়ার বাজারে দ্রুত তেল পৌঁছাতে পারে।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার ‘ফক্স বিজনেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে বিশ্ব বাজারে ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য তেলের দাম কম রাখতে সাহায্য করবে।’
একইসঙ্গে ইরান যাতে লাভবান না হয় সেজন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইরানের প্রবেশ ক্ষমতার ওপর চাপ বজায় রাখা হবে বলেও উল্লেখ করেন বেসেন্ট।
গত দুই সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
রয়টার্স জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০% বেড়েছে।