ইরানে সম্মিলিত ভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৮ নেতা নিহত হয়েছেন। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ ঘোলাতে হয়ে উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিশর-গাজার সীমান্তবর্তী এলাকার রাফা ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘জরুরি ভিত্তিতে বেশ কয়েক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকায় প্রবেশে ব্যবহৃত রাফা ক্রসিং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই সীমান্তপথটি গাজায় ত্রাণ প্রবেশের একমাত্র স্থলপথ। পাশাপাশি, এই পথে গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিরা বিশেষ ব্যবস্থায় গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
রাফা সীমান্ত বন্ধে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিরা।
দীর্ঘ সময় বন্ধের পর গত মাসে গাজার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত রাফা ক্রসিং খুলে দেয় ইসরায়েল। বেশ কয়েক মাস পর সীমিত আকারে ফিলিস্তিনিরা গাজা ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তাদের বেশিরভাগই গুরুতর অসুস্থ রোগী।
ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে গাজার ২৩ লাখ মানুষের বেশিরভাগই তাদের নিজ বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। যার ফলে, গাজাবাসীরা অনেকাংশেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
আর সেই ত্রাণ আসার একমাত্র কার্যকর পথ হলো এই রাফা ক্রসিং।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও গাজাবাসীদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাঠানো ত্রাণ প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ইসরায়েলের আরোপ করা বিধিনিষেধের কারণে গাজায় ওষুধ, পুনর্নির্মাণের উপকরণ, খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতির শুরুতেই গাজাবাসীর প্রয়োজনের তুলনায় অন্তত চার গুণেরও বেশি খাবার সেখানে প্রবেশ করেছে। তবে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেল আবিব।
‘যুদ্ধবিরতির শুরুতে গাজাবাসীদের প্রয়োজনের তুলনায় চার গুণেরও বেশি খাবার সেখানে পাঠানো হয়েছে। যার ফলে, হাতে থাকা মজুদ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গাজাবাসী প্রয়োজন মেটাতে পারবে বলে আমরা আশা করছি’, বিবৃতিতে জানায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
কোগ্যাট নামের সংস্থা দাবি করে, ‘রাফা ক্রসিং বন্ধ হলেও এতে গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতির কোনো অবনতি হবে না।’
সংস্থাটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং নতুন কোনো পরিস্থিতির উদ্রেক হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বেসামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে কোগ্যাট। এই সংস্থাটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অংশ।
সমালোচকরা বলেন, এই সংস্থা মূলত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত থাকে। এই সংস্থাটিই মূলত চলাচলে বিধিনিষেধ ও বিভিন্ন পথ খোলা ও বন্ধ রাখার কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।