ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে এখন পর্যন্ত স্থল অভিযান চালানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি তেল আবিব-ওয়াশিংটন।
তবে আজ রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি বদলেছে। ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান শুরুর কিছু ‘আভাস’ মিলেছে।
সূত্রদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান অভিযানকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাচ্ছে। ইরানের আকাশে আধিপত্য স্থাপন করেই খুশি নন ট্রাম্প। স্থল অভিযানে শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
সৈনিকদের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে। কিছু পূর্বনির্ধারিত প্রশিক্ষণ মুলতবি করা হয়েছে। পরিবর্তে, নতুন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
অর্থাৎ, মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে যাতে দ্রুততম সময়ে ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান শুরু হয়, সেটা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই ভাবে মার্কিন স্থল অভিযান শুরু হতে পারে।
প্রথম প্রক্রিয়াটি প্রথাগত। মধ্যপ্রাচ্য বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো একটি জায়গায় পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে অভিযান শুরু হবে।
তবে অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এত সেনা মোতায়েন সম্ভব কী না, সেটা দেখার বিষয়।
অপর বিকল্পটি হলো ইরানের মাটিতে কোনো বিশেষায়িত বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা। এ বিষয়টি আগেও অনেকবার আলোচনায় এসেছে। গত দুই দিনের মধ্যেও মার্কিন কর্মকর্তারা বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ছিনিয়ে আনার বিষয়ে আলাপ করেন।
তবে বিভিন্ন কারণে এ মুহূর্তে সেটা সম্ভব নয়। উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির ওপর ইরানের মুহুর্মুহু হামলা এর পেছনে একটি বড় কারণ।
এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে বিশেষায়িত বাহিনীর অভিযান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে ইরানের হামলায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
তবে নিঃসন্দেহে ইরান প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলের অন্যতম হলো এই সম্ভাব্য স্থল অভিযান।
গত ৬ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মত দেন, ইরানে এ মুহূর্তে স্থল অভিযান চালানোর কথা ভাবাও সময় নষ্ট।
তিনি নিশ্চিত করেন, আপাতত স্থল অভিযানের কথা ভাবছেন না তিনি।
এর আগে, সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, মার্কিন সেনার ‘বিকল্প’ হিসেবে ইরানের কুর্দিদের ব্যবহারের পরিকল্পনা এঁটেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
কুর্দিরা ইরানের উত্তরাঞ্চল থেকে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে তাদেরকে ব্যস্ত রাখবে। এ সুযোগে দেশটির সাধারণ মানুষ পথে নেমে সরকারের পতন ঘটাবে।
এমনটাই ভাবছে মার্কিন গোয়েন্দারা।
তবে শেষ পর্যন্ত স্থল হামলা প্রসঙ্গে কি ঘটে, সেটার উত্তরের জন্য অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।