ইরান যুদ্ধ ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা বিবেচনা করছি: ট্রাম্প

Date:

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরান যুদ্ধ ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা বিবেচনা করছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জনের ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে। বিবিসির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুবিধাভোগী অন্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। আর যুক্তরাষ্ট্র এই পথ ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় নেই।

গত মাসে সংঘাত শুরুর পর ইরান কার্যত এই নৌপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়েছে। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, তার দেশ শত্রুপক্ষকে ‘চরম নাস্তানাবুদ’ করে ছেড়েছে।

এর আগেও ট্রাম্প কয়েকবার যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে সংঘাত কেবল বেড়েছেই। এরই মধ্যে হোয়াইট হাউস চলতি সপ্তাহে এই যুদ্ধের জন্য আরও ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের আবেদন করেছে; পাশাপাশি ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে আরও সৈন্য ও যুদ্ধজাহাজ।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বাইরে ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধবিরতি করতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আপনি আক্ষরিক অর্থেই প্রতিপক্ষকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতির কোনো প্রশ্নই আসে না।’

তবে পাম বিচে যাওয়ার পথে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত আমাদের বিশাল সামরিক অভিযানগুলো এখন গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি; কারণ আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী এই পথটি পাহারা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সেই দেশগুলোকেই নিতে হবে যারা এটি ব্যবহার করে—যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকায় নেই!

এর আগে দিনের শুরুতেই তিনি ন্যাটো মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেন, কারণ তারা এই প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এটি একটি ‘সহজ’ সামরিক কৌশল মাত্র।

প্রেসিডেন্ট পোস্টে লেখেন, ‘তাদের জন্য এটি করা কতই না সহজ এবং এতে ঝুঁকিও খুব সামান্য। কাপুরুষের দল, আমরা এই বিষয়টি মনে রাখব!

ট্রাম্প যে এই প্রথমবার যুদ্ধ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন এমনটি নয়। গত ৯ মার্চ সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় যুদ্ধ মোটামুটি পুরোপুরিই শেষের পথে।’

একই দিনে ফ্লোরিডায় এক জনসমাবেশে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হয়ে যাবে।

তবে শুক্রবার বিবিসির মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিবিএস জানিয়েছে, পেন্টাগন কর্মকর্তারা ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের জন্য বিস্তারিত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

সিবিএস দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মধ্যে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা ইরানি সৈন্যদের আটক করলে তাদের কীভাবে রাখা হবে, সে সম্পর্কিত আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়টার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে প্রায় আড়াই হাজার নৌ সেনা এবং যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল অথবা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

মার্কিন বাহিনী চলতি মাসেই ওই দ্বীপে বোমা হামলা চালিয়েছে; সেখানে একটি বিশাল তেল টার্মিনাল রয়েছে যা ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় খার্গ দ্বীপ গুঁড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সৈন্য পৌঁছাতে এক সপ্তাহ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর জ্যেষ্ঠ এই উপদেষ্টা বলেন, সেখানে অতিরিক্ত সৈন্য বা রিইনফোর্সমেন্ট পাঠানো হবে ঠিকই, তবে তাদের সবার পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

আসন্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার জানিয়েছে যে, তারা ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। এর ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।

পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির গগনচুম্বী দাম মার্কিন নাগরিকদের জন্য যুদ্ধের খরচের কথা প্রতিদিন মনে করিয়ে দিচ্ছে। এটি আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের জন্য সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এরইমধ্যে ইরান সৌদি আরব ও ইসরায়েলের ওপর নতুন করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শুক্রবার এক কঠোর ও আপসহীন লিখিত বিবৃতি দেন।

খামেনি বলেন, ইরানিরা শত্রুকে এমন ‘চরম নাস্তানাবুদ’ করেছে যে তারা এখন পরস্পরবিরোধী ও অর্থহীন প্রলাপ বকতে শুরু করেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের দেশবাসীর মধ্যে বর্তমানে যে অভূতপূর্ব ঐক্য তৈরি হয়েছে, তার ফলেই শত্রু পরাজিত হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলি হামলায় তার পিতা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

Popular

More like this
Related

ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে: আইডিএফ

ইসরায়েল বলছে, ইরান থেকে তাদের দেশের দিকে নতুন করে...

ছুটি নেই, ঈদেও ইউনিফর্মে তারা

সারাদেশের মানুষ যখন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছে, তখন...

র‍্যাশফোর্ড ও ক্যানসেলোকে নিয়ে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে: ফ্লিক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত, লা লিগায় শীর্ষে...

এই দুঃসময়ে একনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ইরানের পাশে আছে রাশিয়া: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে ইরানের...