ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মোটরসাইকেলের বাজার শুরুতে বেশ জমজমাট থাকলেও এখন হঠাৎ করেই তাতে ভাটা পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় ক্রেতারা এখন নতুন বাইক কেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকে তড়িঘড়ি করে তেল মজুদ বা ‘প্যানিক বায়িং’ শুরু করেছেন।
যদিও দেশের পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে মেটানো হয়, তবুও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে মোটরসাইকেল বিক্রির সবচেয়ে বড় মৌসুমেও কেনাকাটার গতি ধীর হয়ে গেছে।
এসিআই মোটরসের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, ঈদের কেনাকাটা বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু জ্বালানির অভাব আর খরচ বাড়ার দুশ্চিন্তা ক্রেতাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার আগে গত বছরের তুলনায় আমাদের বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি ছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রামাঞ্চলেই বিক্রির গতি কমার প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত ঈদের মাসে যেখানে প্রায় ৫২ হাজার বাইক বিক্রি হয়, সেখানে এখন সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার আবারও চাঙ্গা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও তেলের চড়া দামের কারণে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের ওপর খরচের চাপ বাড়ছে। এতে করে ভবিষ্যতে বাইকের দাম আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, তেল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় হঠাৎ করেই মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেছে, যদিও বাস্তবে সরবরাহে কোনো বড় সমস্যা নেই। মধ্যপ্রাচ্য সংকট ব্যবহারকারীদের মনে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল একটি অপরিহার্য বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই ঈদের আগে মানুষ এটি কেনার জন্য উন্মুখ থাকে এবং ব্র্যান্ডগুলোও নানা আকর্ষণীয় অফার দেয়। কিন্তু এবারের অনিশ্চয়তা সেই আমেজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুজুকি বাংলাদেশের মার্কেটিং প্রধান শাফকাত সাকিন মনে করেন, বাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
তিনি বলেন, পুরো শিল্পের পরিস্থিতি গত বছরের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে। বাজারের ধরনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিছু বড় কোম্পানি এখন আগের মতো সক্রিয় নেই এবং মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক বাইকের (ইভি) দিকেও ঝুঁকছে।
সাকিন আরও জানান, অনেক ক্রেতা এখন বাইক কিনলেও কয়েক দিন পর ডেলিভারি নিচ্ছেন। জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা নিয়ে দুশ্চিন্তাই এর মূল কারণ।