আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। সোমবার কুয়ালালামপুর থেকে জারি হওয়া বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
এএফসির মহাসচিব উইন্ডসর জন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ইরান ফেডারেশন আমাদের নিশ্চিত করেছে তারা বিশ্বকাপে অংশ নেবে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, তবে এখন পর্যন্ত তারা অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছে।’
ইরান গ্রুপ স্টেজে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুইটি ম্যাচ এবং সিয়াটেলে একটি ম্যাচ খেলার জন্য নির্ধারিত। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শুরু হবে ১১ জুন থেকে এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া যে কোনো দেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইরানের মতো দল সরে গেলে ফিফা নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প দল ডাকতে পারে, তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন স্পষ্ট করেছেন যে, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রয়োজন দেখা যায়নি। এদিকে, ফিফা এবং এএফসি উভয়ই পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যেহেতু গ্রুপে শক্তিশালী দল হিসেবে চিহ্নিত, তাই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে গ্রুপের অন্যান্য দলগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা আরও চিত্তাকর্ষক হবে। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে, যা খেলা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। সেই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তা এখনও থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক, সেখানে গিয়ে খেলাটা ইরানের পক্ষে অসম্ভব বলেই মনে করছে তেহরান।