১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় সাতক্ষীরা জেলা। যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনে ঐতিহাসিক এ দিনটি উদযাপন করেছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট।
দিবসটি স্মরণে আজ রোববার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
নানা কর্মসূচির মধ্যে আরও ছিলো— বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা।
সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা।
পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধারা।
তারা বলেন, ‘আজও প্রাপ্য সম্মান ও সেবা থেকে বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধারা। সরকারি হাসপাতালে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও ওষুধ-চিকিৎসা পান না।’
সংগঠনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। বলেন, ‘২ মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তানবিরোধী মিছিলে গুলিতে আবদুর রাজ্জাক নিহত হওয়ার পর আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৯ মে ভোমরা সীমান্তে সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনার ২ শতাধিক সদস্য নিহত এবং ৩ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরবর্তীতে গেরিলা অভিযানে শহীদ হন আরও ৩৩ জন। ৩০ নভেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা বোমা বিস্ফোরণে সাতক্ষীরার পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দিলে পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর ৬ ডিসেম্বর রাতে জেলার বিভিন্ন সেতু উড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী।’
সভায় বক্তারা, সাতক্ষীরার বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হওয়ার আহ্বান জানান।
সভা পরিচালনা করেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক আহমেদ মোল্লা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুজ্জামান, মিজানুর রহমান, কাজী রিয়াজ, অ্যাডভোকেট মোস্তফা নুরুল আলম, জিল্লুর করিম, মইনুল ইসলাম ও সন্তোষ কুমার দাস।