অ্যাশেজ শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ছেন খাওয়াজা

Date:

দীর্ঘ ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার উসমান খাওয়াজা। আগামী ৪ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া সিডনি অ্যাশেজ টেস্টের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন তিনি।

ম্যাচের দুই দিন আগে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান খাওয়াজা। এই টেস্ট দিয়েই অস্ট্রেলিয়া যেমন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আরও ১২ পয়েন্ট নিশ্চিত করতে চায়, তেমনি সিরিজ শেষ করতে চায় ৪–১ ব্যবধানে জয় দিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে খাওয়াজা বলেন, ‘আজ আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিচ্ছি, এসসিজি টেস্ট ম্যাচের পর আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেব।’

নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাকে কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি কিছু দিয়েছেন। এমন সব স্মৃতি দিয়েছেন, যা আজীবন আমার সঙ্গে থাকবে; এমন বন্ধুত্ব দিয়েছেন, যা খেলাটির সীমানা ছাড়িয়ে গেছে; আর এমন শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমাকে মাঠের বাইরে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’

একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন সেই মানুষদের কথা, যাদের অবদান পর্দার আড়ালে থেকে গেছে।

‘কোনো ক্যারিয়ারই এক জনের একার নয়। আমি অসংখ্য মানুষের সহায়তা পেয়েছি। বিশেষ করে আমার বাবা-মাকে ধন্যবাদ, তাদের ত্যাগ কখনোই হাইলাইটস রিলে ধরা পড়ে না।’

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিন সংস্করণ মিলিয়ে খাওয়াজার সংগ্রহ আট হাজারেরও বেশি রান। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তিনি খেলেছেন ৮৭টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ওপেনিংয়ে ধৈর্য, দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভরসার নাম।

নিজ শহর সিডনিতেই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখছেন খাওয়াজা, যেখানে ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়েছিল।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, আমি এসসিজির একেবারে কাছেই থাকি, কুক রোডে। ছোটবেলায়, যখন আমার বাবা-মা দুই বেডরুমের ছোট একটি ফ্ল্যাটে আমাদের বড় করতে সংগ্রাম করছিলেন, তখনই আমি স্বপ্ন দেখতাম, একদিন আমি টেস্ট ক্রিকেটার হব।’

এই এসসিজিতেই ৩৫ বছর বয়সে নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেন খাওয়াজা। ২০২২ সালের শুরুতে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ট্রাভিস হেড ছিটকে গেলে সুযোগ পান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করে আবারও নিজেকে প্রমাণ করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

সেই প্রত্যাবর্তনের পর দলে ফেরার প্রথম দুই বছরেই তিনি করেন সাতটি শতক এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে তিনি নির্বাচিত হন আইসিসি বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার।

Popular

More like this
Related

বিশ্বকাপে অফসাইড সিদ্ধান্তে এআইচালিত ‘থ্রিডি অ্যাভাটার’ ব্যবহার করবে ফিফা

আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপে অফসাইড সিদ্ধান্ত আরও নিখুঁত করতে কৃত্রিম...

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন তারেক রহমান

বিএনপির স্থগিত হওয়া 'দেশ গড়ার পরিকল্পনা' কর্মসূচি শুরু হচ্ছে...

ওয়াসিম ঝড়ে ম্লান সৌম্যের ফিফটি, নোয়াখালীর টানা ষষ্ঠ হার

ব্যক্তিগত কারণে প্রথম তিন ম্যাচ না খেলা সৌম্য সরকার...

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে...