অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল চট্টগ্রাম বন্দর

Date:

শ্রমিক ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর।

 

নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত কর্মবিরতি চলছে।

 

এই সময়ে জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার এখনো চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। 

 

সরকার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানান তিনি।

 

আন্দোলনের পঞ্চম দিনে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড জনশূন্য দেখা গেছে। মানুষ ও যানবাহনের কোনো চলাচল ছিল না, সব শেড ও অফিসও ছিল বন্ধ।

 

সকালে জোয়ারের সময় বন্দরের ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা ছিল এবং বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সূচি ছিল। তবে বাস্তবে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি।

 

বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট ও ফিডার অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে কর্তৃপক্ষ পাইলটেজ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। 

 

তারা আরও জানান, আজ সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত জেটিতে অবস্থান নিয়ে টাগবোট, পাইলট বোট ও মুরিং বোটসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস নৌযানের নোঙর ঠেকিয়ে দেন। ফলে পাইলটেজ কার্যক্রম একেবারেই শুরু করা যায়নি।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা থেকে জোয়ার শুরু হলেও জাহাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত সব পাইলট কন্ট্রোল রুমে প্রস্তুত ছিলেন। তবে আন্দোলনের কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারেননি।

 

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন শিকদার জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর (আইসিডি) মধ্যে আমদানি, রপ্তানি কিংবা খালি কন্টেইনার পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

 

বন্দর ইয়ার্ডের ডেলিভারি পয়েন্টগুলোও ছিল ফাঁকা। কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। আমদানি পণ্য ছাড় ও রপ্তানি চালান বন্ধ থাকায় বন্দর ইয়ার্ড এবং আইসিডিগুলোতে কন্টেইনারের জট ক্রমেই বাড়ছে।

 

বার্থ অপারেটরস, শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, এভাবে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়া নজিরবিহীন।

 

তিনি বলেন, বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতির। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।

 

 

Popular

More like this
Related

মুম্বাইয়ে মাখোঁ-মোদি বৈঠক, হতে পারে শতাধিক রাফাল জেট বিক্রির চুক্তি

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে টেকসই ও কার্যকর যুদ্ধাস্ত্রের অন্যতম হলো...

ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও ভারতের স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণ...

আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া গাড়ি না সরালে পাওয়া যাবে না নতুন নিবন্ধন

অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর কোনো গাড়ি সরিয়ে না...

আ. লীগ ও ছাত্রলীগের ৭ নেতার বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম...