সবুজবাগের সেই ধর্ষক নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

Date:

রাজধানীর সবুজবাগে সংঘটিত একটি নৃশংস ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত নাজমুস সাকিব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন এমন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নতুন করে সাইবার অপরাধ ও ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

২০১১ সালে ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় নাজমুস সাকিবের নাম মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় শিশুটি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি দেশত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

মামলার অগ্রগতি, বিচারিক প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা এবং অভিযুক্তের অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি বিদেশে অবস্থান করেই সক্রিয়ভাবে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতার ভয় দেখিয়ে বা অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে সুনাম নষ্ট করার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ, ব্যবসায়িক সুনাম নষ্টের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি এবং নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে চাপ সৃষ্টি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাজমুস সাকিবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগকারী ব্যবসায়ীরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলাসহ সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আইনবিদ ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থানকারী কোনো আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

Popular

More like this
Related

ডেইলি স্টারের ৩৫ বছরে তারকাদের প্রত্যাশা

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ৩৫ বছরে...

ন্যাটোর ‘গুরু’ ট্রাম্প কি জোট ছাড়ার ক্ষমতা রাখেন?

যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা দেশটির মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি...

শরীয়তপুরে সেচ পাম্পে বোরকা পেঁচিয়ে নারীর মৃত্যু

শরীয়তপুর সদর পৌরসভার চরপালং এলাকায় ইলেকট্রিক সেচ পাম্পের সঙ্গে...

ভারতে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান, বিস্তার ও ভবিষ্যৎ

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির করতলগত হলো। অনেকদিন ধরেই এই ধরনের একটা...