বিদায়ী কোচ পেপ গার্দিওলার জায়গায় আগামী মৌসুমে এনজো মারেস্কাকে নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সোমবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি এই ঘোষণা দিয়েছে।
তিন বছরের চুক্তিতে সই করেছেন মারেস্কা। ম্যান সিটির কাঠামোর সঙ্গে তার পুরনো পরিচয় আছে। এর আগে তিনি ক্লাবটির যুব দলের কোচ ছিলেন। সিটি যখন ২০১৮-১৯ মৌসুমে ঘরোয়া ট্রেবল (প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ) জিতেছিল, তখন গার্দিওলার সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে মারেস্কা বলেছেন, ‘ম্যানচেস্টার সিটি এমন একটি ক্লাব, যা আমি খুব ভালো করে চিনি। এই দলকে পরিচালনা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য দারুণ বিষয়।’
ইতালিয়ান এই কোচ যোগ করেছেন, ‘এখানে কর্মরত মানুষদের গুণাবলীই ক্লাবটিকে এতটা বিশেষ করে তুলেছে। আমার সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখায় তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। খেলোয়াড়দের কোচিং করাতে আমার আর তর সইছে না। আমি চাই আমরা জিতি, ভালো ফুটবল খেলি এবং ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিনিধিত্ব করার চাপটাও উপভোগ করি।’
৪৬ বছর বয়সী মারেস্কার প্রধান কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে স্বদেশি ক্লাব পারমার হয়ে। তবে সেখানে তিনি মাত্র ১৪ ম্যাচ টিকে ছিলেন, জয় পেয়েছিলেন কেবল চারটিতে। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব (ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তর) লেস্টার সিটির দায়িত্ব নেন তিনি। ওই মৌসুমেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে দলটিকে তিনি আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে আনেন।
এই সাফল্যের কাঁধে ভর করে মারেস্কা চেলসিতে যোগ দেন। সেখানে তার দায়িত্ব ছিল তরুণ কিন্তু বেশ দামি খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া স্কোয়াডকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে আনা। মারেস্কার অধীনে ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ব্লুজরা চতুর্থ স্থান দখল করে। পাশাপাশি তিনি জেতেন উয়েফা কনফারেন্স লিগ এবং বর্ধিত পরিসরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। তবে মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের দ্বিতীয় মৌসুমের মাঝপথেই ক্লাব ছাড়েন তিনি।
এখন মারেস্কার সামনে ৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলার শূন্যস্থান পূরণ করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। স্প্যানিশ কোচ গার্দিওলা এক দশকের লম্বা মেয়াদে সিটিকে ইংলিশ ফুটবলের এক অদম্য শক্তিতে পরিণত করেছেন। সবশেষ ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষদিকে গত মে মাসে বিদায়ের কথা জানান তিনি।
গার্দিওলা ম্যান সিটিকে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ বহু ট্রফি জিতিয়েছেন। নিজের শেষ মৌসুমে লিগ কাপ ও এফএ কাপ জেতেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের ক্লাবটিতে তার অসাধারণ এক যাত্রার দারুণ সমাপ্তি ঘটে।
