মহাকাশে যা খাবেন চন্দ্রাভিযানের ৪ নভোচারী

Date:

আর্টেমিস-২ মিশনে চন্দ্রাভিযানে গেছেন চার নভোচারী। তারা চাঁদের কক্ষপথে ১০ দিন ভ্রমণ করবেন। তারপর পৃথিবীতে ফিরবে তাদের মহাকাশযান। কিন্তু এই ১০ দিনে তারা কী খাবেন? কেমন হবে তাদের খাবার?

আর্টেমিস-২ মিশন শুরুর আগে নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, খাবারের তালিকা তৈরি করা হয় মহাকাশবিষয়ক খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও ক্রুদের সঙ্গে সমন্বয় করে। যেন ক্রুদের ক্যালোরি, পানির চাহিদা ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মহাকাশে খাবার এমন হতে হবে, যেন ভেঙে ছোট ছোট টুকরো না হয়। কারণ মাইক্রোগ্রাভিটি পরিস্থিতিতে খাবারের টুকরো ভেসে বেড়ালে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া খাবার যেন খুব সহজে তৈরি করা যায়। কারণ সেখানে স্বাভাবিক রান্না করা যায় না।

নাসা জানিয়েছে, অরিয়ন মহাকাশযানে একটি পানির মেশিন আছে। শুকনো খাবারে সেই পানিতে মিশিয়ে আবার খাওয়ার উপযোগী করা হবে, অনেকটা স্যুপ বা নুডলসের মতো। পাশাপাশি খাবার গরম করার জন্য ছোট একটি ফুড ওয়ার্মার আছে। দরকার হলে সেই ফুড ওয়ার্মার দিয়ে খাবার একটু গরম করে নিতে পারবেন নভোচারীরা।

সহজ করে বললে, মহাকাশে রান্না নয়, বরং পানি মিশিয়ে ও একটু গরম করে খাবার তৈরি করা হয়। তবে টুকরো হয়ে যায় এমন খাবার সেখানে নেওয়া হয় না।

চাঁদের পথে ব্যস্ত সূচির মধ্যেও তাদের জন্য আলাদা করে নাশতা, দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের সময় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছিল নাসা।

খাবারের পাশাপাশি তারা প্রতিদিন কিছু পানীয়ও পান করতে পারবেন। তবে এজন্য সীমা আছে, এক দিনে সর্বোচ্চ দুইটা পানীয় নেওয়া যাবে। এই পানীয়গুলো সাধারণ পানির মতো নয়, স্বাদযুক্ত (ফ্লেভারড)। এর মধ্যে কফিও থাকতে পারে।

১৯৭২ সালে শেষবারের মতো অ্যাপোলো প্রোগ্রাম মিশনের নভোচারীরা চাঁদে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে মহাকাশ খাদ্য প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে স্পেস শাটল যুগে খাবারের মেনু বেড়েছে এবং খাবার প্রস্তুতের সুবিধাও বেড়েছে। স্পেস শাটল বহুগামী মহাকাশযান, যা মানুষ এবং সরঞ্জাম উভয়ই মহাকাশে পাঠাতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো সুবিধা অরিয়নে পাওয়া যাবে না। কারণ মহাকাশ স্টেশনে ফ্রিজ আছে এবং নিয়মিত নতুন খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

কিন্তু আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা এমন সুবিধা পাবেন না। সেখানে পুনরায় খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা নেই।

এজন্য পুরো মিশনের জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট মেনু ঠিক করে নিয়েছে নাসা। নভোচারীরা আগে থেকে এই মেনু দেখে তাদের পছন্দের খাবার বেছে নিতে পেরেছেন। তারা প্রতিটি খাবারের স্বাদ এবং মান পরীক্ষা করেছেন। এরপর নাসা নভোচারীদের পছন্দের খাবারগুলোর পুষ্টিগুণ যাচাই করে নিয়েছেন।

প্রতিটি খাবারের কনটেইনারে দুই থেকে তিন দিনের খাবার থাকবে। যেন একটি বক্স খুলেই তারা কয়েকটি অপশন থেকে নিজের পছন্দের খাবার বেছে নিতে পারেন।

অবশ্য মহাকাশযানের কাজের ধাপ অনুযায়ী খাবারের ধরনও বদলাবে। যেমন—কিছু খাবার (ফ্রিজ-ড্রাইড) প্রস্তুত করতে পানি লাগে, কিন্তু উৎক্ষেপণ বা অবতরণের সময় পানি ব্যবহার করা যায় না। তাই ওই সময়ের জন্য প্রস্তুত খাবার রাখা হয়। অন্যদিকে, যখন সব সিস্টেম চালু থাকে, তখন বিকল্প খাবার বেশি পাওয়া যায়।

নাসা একটি ইনফোগ্রাফিক দিয়ে আার্টেমিস-২ এর খাবারের কিছু তথ্য দিয়েছে। যেমন—মিশনে মোট ১৮৯ ধরনের খাবার ও পানীয় থাকবে। এর মধ্যে ১০টির বেশি ধরনের পানীয় থাকবে। এছাড়া পাঁচ ধরনের হট সস, ৫৮টি টরটিলা। এছাড়া নানা ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার থাকবে, যেমন পুডিং, কাবলার, কেক, চকলেট ও কুকি।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, অরিয়ন মহাকাশযানে খাওয়ার ব্যবস্থা অনেকটা ক্যাম্পিংয়ের মতো। এখানে খাবার সহজে সংরক্ষণযোগ্য ও তৈরি করা যায়, খেতে কোনো ঝামেলা মনে হয় না, এবং প্রস্তুত করতে খুব সাধারণ উপকরণ লাগে।

Popular

More like this
Related

নারী এমপিদের নিয়ে আমির হামজার কুৎসিত বক্তব্যের বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা

নিজের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের আরও দুইজন নারী সহকর্মীকে নিয়ে...

কঠোরতার পথে শিক্ষা, নতুন দিগন্তের সন্ধানে পাবলিক পরীক্ষা

পাবলিক পরীক্ষাকে আরও কঠোর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার উদ্যোগে বাংলাদেশের...

‘আমি খুশি এবং সুখী’

বাংলাদেশের একজন প্রবল দর্শকনন্দিত অভিনেতা মোশাররফ করিম। ছোট-বড় সবার...

হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘সম্ভাব্য সব’ পদক্ষেপ নেওয়া হবে: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালি চালু করতে ‘সম্ভাব্য সব কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও...