আলোচনার জন্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, গত কয়েকদিনে বেশ কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশের মাধ্যমে আমরা বার্তা পেয়েছি যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার অনুরোধ জানাচ্ছে।
তবে যুদ্ধ চলাকালে গত ২৪ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপ বা আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে। আলোচনার ভিত্তিতে তিনি পাঁচ দিনের জন্য হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কিন্তু আলোচনার দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হলো।
ট্রাম্পের এ দাবির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
তাদের কথোপকথনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি ছিল না বলে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে রয়টার্স জানায়, মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, এই আলোচনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে হচ্ছে না। বরং তিনি এমন কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করছেন যাদের তিনি ‘সুবিবেচক’ বলে উল্লেখ করেন।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে আমরা আমাদের মন মতো বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাব।’
ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু ‘প্রধান বিষয়ে’ ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারাই ফোন করেছে, আমি করিনি। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় এবং আমরাও চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী।’
এর আগে ইরানের গণমাধ্যমগুলোও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কিংবা কারও মধ্যস্থতায় কোনো আলোচনা চলছে না।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ নাম উল্লেখ না করে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ইরানের যোগাযোগ হয়নি।
সূত্রের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ইরান পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ট্রাম্প মূলত ‘পিছু হটেছেন’।