পবিত্র ঈদুল ফিতরের একদিন পার হলেও আনন্দের রেশ কাটেনি এখনো। ঈদের পরদিন আজ রোববারও রাজধানীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার কোলাহল থেকে উত্তরার দিয়াবাড়ির উন্মুক্ত প্রান্তর, কিংবা হাতিরঝিলের লেক থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও রমনা পার্কের স্নিগ্ধ সবুজের সমারোহ—সবখানেই ছিল উৎসবমুখর মানুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।
ছুটির দিনে রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণ মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আজ সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বাঘ, সিংহ, হরিণ থেকে শুরু করে বাহারি সব পাখি দেখতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের।
উত্তরা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে আসা মাহমুদ হাসান জানান, প্রচণ্ড ভিড় আর গরম থাকলেও দিনটি বেশ উপভোগ করেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের ঈদের আনন্দ দিতেই এখানে আসা। চিড়িয়াখানা এখনো ঘোরার জন্য অন্যতম সেরা জায়গা। বেশ ভিড় আর গরম থাকলেও আগের চেয়ে পরিবেশ কিছুটা উন্নত মনে হচ্ছে।’
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, আজ প্রায় ৭৫ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন, যা সাধারণ ছুটির দিনের তুলনায় অনেক বেশি।
মুঘল স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সব বয়সী মানুষ ভিড় জমান ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা। অনেকেই কেল্লার চত্বরে গাছের ছায়ায় বসে আড্ডায় মেতেছিলেন, আবার কাউকে দেখা গেছে দলবেঁধে সেলফি তুলতে।
তবে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কাউকে কাউকে হতাশ হয়ে ফিরতেও হয়েছে। টিকিট কাউন্টার বন্ধ হওয়ার পর যারা পৌঁছেছিলেন, তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
বাড্ডা থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আসা রফিক আহমেদ জানান, জ্যামের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে তারা টিকিট পাননি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাটা ভেতরে ঢোকার জন্য বায়না ধরছিল, কিন্তু টিকিট কাউন্টার বন্ধ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ফিরেই যেতে হচ্ছে।’
যারা কোলাহল এড়িয়ে একটু শান্তিতে সময় কাটাতে চেয়েছেন, তাদের প্রথম পছন্দ ছিল ধানমন্ডি লেক ও রমনা পার্ক। লেকের পাড়ে বসে গল্প করা কিংবা ছায়াশীতল পরিবেশে পায়চারি করে সময় কাটিয়েছেন তারা।
রমনা পার্কে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রমনা পার্কের পরিবেশ সবসময়ই প্রশান্তিদায়ক। নাগরিক ব্যস্ততার মাঝে একটু স্বস্তির জন্য আমরা প্রতি বছরই এখানে আসি।’
হাতিরঝিলের ওয়াকওয়ে ও লেকপাড়ে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কড়া নিরাপত্তার মাঝে লেকে ওয়াটার ট্যাক্সিতে ভ্রমণ ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
অন্যদিকে, আধুনিক ঢাকার প্রতীক ‘মেট্রোরেল’ ভ্রমণেও ছিল উৎসবের আমেজ। উত্তরা উত্তর, আগারগাঁও ও মতিঝিল স্টেশনে দিনভর যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানিয়া রহমান বলেন, ‘ঈদে মেট্রোরেলে চড়ার পরিকল্পনা আগেই ছিল। এটা দ্রুত, পরিষ্কার ও শহরটাকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়।’
প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বাইরে বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট পার্ক ও খেলার মাঠেও মানুষের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান আর শিশুদের নাগরদোলার শব্দে মুখরিত ছিল এই চত্বরগুলো।
গরম আর অতিরিক্ত ভিড় সত্ত্বেও মানুষের উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। ঢাকাবাসীর কাছে ঈদের পরদিন ঘুরতে যাওয়াটা এখন এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও এমন ভিড় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।